Lata Mangeshkar: কেন সারাজীবন শুধুই সাদা শাড়ি পরেছেন লতা মঙ্গেশকর?
Lata Mangeshkar Unknown Facts: কেবল সুরের মূর্ছনায় নয়, পোশাক ও ফ্যাশনের দিক থেকেও অত্যন্ত নিখুঁত ও শৌখিন ছিলেন লতাজি। বিনুনি করা চুল, কপালে নিখাদ লাল টিপ আর পরনে ধবধবে সাদা শাড়ি—এই অতি সাধারণ রূপেই তাঁর মধ্যে ফুটে উঠত এক অদ্ভুত ঈশ্বরীয় মাধুর্য।

গান রেকর্ডিংয়ের স্টুডিও হোক বা কোনও জাকজমকপূর্ণ অ্যাওয়ার্ড শো, এমনকী, নিজের বাড়ির চার দেওয়ালের অন্দরে—কিংবদন্তী সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরকে কখনও সাদা শাড়ি ছাড়া অন্য কোনও পোশাকে দেখা যায়নি। তাঁর কোটি অনুরাগী, পরিবারের মানুষ কিংবা সঙ্গীতজগতের গুণীজন, কেউই তাঁকে রঙিন কোনও পোশাকে দেখার সুযোগ পাননি। ৯২ বছর বয়সে সুরলোকে পাড়ি দেওয়া দেশের এই সর্বকালের অন্যতম ‘জাতীয় রত্ন’ ও আইকন-এর প্রায় ৮০ বছরের দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে এক হাজারের বেশি হিন্দি ছবিতে কণ্ঠ দেওয়ার রেকর্ড রয়েছে।
দেশের প্রায় সমস্ত ভাষাতেই গান গেয়েছেন তিনি। মধুবালা থেকে শুরু করে প্রীতি জিন্টা—কয়েক দশক ধরে রুপোলি পর্দার একাধিক প্রজন্মের নায়িকাদের লিপে মানিয়ে গিয়েছে তাঁর জাদুকরী কণ্ঠ। কেবল সুরের মূর্ছনায় নয়, পোশাক ও ফ্যাশনের দিক থেকেও অত্যন্ত নিখুঁত ও শৌখিন ছিলেন লতাজি। বিনুনি করা চুল, কপালে নিখাদ লাল টিপ আর পরনে ধবধবে সাদা শাড়ি—এই অতি সাধারণ রূপেই তাঁর মধ্যে ফুটে উঠত এক অদ্ভুত ঈশ্বরীয় মাধুর্য। লাইভ পারফর্ম্যান্সের সময় অবশ্য মাঝেমধ্যে রঙিন পাড়ের সাদা তাঁতের শাড়ি পরতে পছন্দ করতেন তিনি। তবে সেটা খুবই কম চোখে পড়ত।
অনেকেই হয়তো ভাবতেন এটি কেবলই সাধাসিধে জীবনযাপনের অঙ্গ, কিন্তু বাস্তবে শুভ্র সাদা রঙ আর খাঁটি হিরে ছিল সুরকোকিলার বড্ড প্রিয়। জীবনের কোনও অনুষ্ঠানেই তিনি মেকআপ ব্যবহার করতেন না; গায়ের স্বাভাবিক উজ্জ্বল রঙ ও সাদা পোশাকই ছিল তাঁর বিশুদ্ধতার প্রতীক। মৃদুভাষী এই কিংবদন্তীর কানে সবসময় জ্বলজ্বল করত এক জোড়া দামি হিরের কানের দুল।
খ্যাতি আর সম্পদের তুঙ্গে থাকা সত্ত্বেও লতাজির একমাত্র বিলাসিতা ছিল এই শাড়ি আর হিরের অলঙ্কার। যদিও সেই মোহের ছায়া তিনি কখনওই নিজের সঙ্গীত সাধনার ওপর পড়তে দেননি।
নিজের প্রথম উপার্জনের স্মৃতি ভাগ করে একবার এক সাক্ষাৎকারে লতাজি বলেছিলেন, “আমার প্রথম উপার্জনের টাকায় আমি মায়ের জন্য সোনার গয়না বানিয়ে দিয়েছিলাম। আর নিজের জন্য কিনেছিলাম বিশেষভাবে ডিজাইন করা একটা হিরে ও রুবির আংটি, যার ওপর খোদাই করা ছিল আমার নামের প্রথম দুই অক্ষর ‘LM’ (Lata Mangeshkar)। আংটিটি আজীবন আমার সঙ্গেই রয়ে গিয়েছে। এটি আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি।”
১৯৪৭ সালে মাত্র ৭০০ টাকা খরচ করে সেই হিরের আংটিটি কিনেছিলেন তিনি। সঙ্গীতভুবনের এই রানির ড্রেসিং সেন্স যেমন ছিল বুদ্ধিমত্তায় ভরা, তেমনই শৌখিনতার দিক থেকেও তিনি ছিলেন অনন্য। কোটি মানুষের হৃদয়ে আজীবন সুরের পাশাপাশি তাঁর এই ধবল-শুভ্র রূপটি চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।
