AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Suchitra Sen: সুচিত্রাকে নিয়ে কোনও ছবি বানাননি কেন ঋত্বিক ঘটক?

Ritwik Ghatak and Suchitra Sen: মহানায়িকার মনে চিরকাল থেকে গিয়েছিল এক গভীর আক্ষেপ। সুপ্রিয়া দেবী কিংবা মাধবী মুখোপাধ্যায়ের মতো সহ-অভিনেত্রীরা যখন ঋত্বিক ঘটকের কালজয়ী সৃষ্টির নায়িকা হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নাম কুড়াচ্ছেন, তখন সুচিত্রা সেনের ফিল্মোগ্রাফিতে অনুপস্থিত কেবল ঋত্বিক ঘটকের নামটিই! কেন?

Suchitra Sen: সুচিত্রাকে নিয়ে কোনও ছবি বানাননি কেন ঋত্বিক ঘটক?
| Updated on: Oct 13, 2026 | 7:31 PM
Share

সোনালি যুগের রূপোলি পর্দায় তিনিই ছিলেন একচ্ছত্র সম্রাজ্ঞী। তাঁর এক ঝলক হাসিতে মাতোয়ারা হতো কোটি কোটি সিনেপ্রেমীর মন, আর বক্স অফিসের সাফল্য নিশ্চিত করতে সুচিত্রা সেনের আলিপুরের বাড়ির সামনে রাত দিন লম্বা লাইন দিতেন নামজাদা প্রযোজকেরা। সাফল্য, অর্থ কিংবা জনপ্রিয়তা—কোনও কিছুরই কমতি ছিল না তাঁর জীবনে। কিন্তু সব পাওয়ার মাঝেও মহানায়িকার মনে চিরকাল থেকে গিয়েছিল এক গভীর আক্ষেপ। সুপ্রিয়া দেবী কিংবা মাধবী মুখোপাধ্যায়ের মতো সহ-অভিনেত্রীরা যখন ঋত্বিক ঘটকের কালজয়ী সৃষ্টির নায়িকা হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নাম কুড়াচ্ছেন, তখন সুচিত্রা সেনের ফিল্মোগ্রাফিতে অনুপস্থিত কেবল ঋত্বিক ঘটকের নামটিই! কেন?

রুপোলি দুনিয়ার বাইরে দুজনের সম্পর্ক কিন্তু মোটেই খারাপ ছিল না। কোনও ব্যক্তিগত ঝগড়া বা বৈরিতা ছিল না সুচিত্রা সেন ও ঋত্বিক ঘটকের মধ্যে। তা সত্ত্বেও কেন সুচিত্রাকে নিয়ে কোনও ছবি বানাননি ঋত্বিক? টলিউডের অন্দরে এ নিয়ে চর্চা কম হয়নি। একাংশের মতে, সুচিত্রার তারকা-সুলভ গ্ল্যামার, আভিজাত্য আর আপাত দাম্ভিক মেজাজ নাকি পছন্দ ছিল না গণমুখী ও সামাজিক বাস্তবতার পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের। অনেকে মনে করতেন, তারকা সুচিত্রার সেই অতি-গ্ল্যামারাস ভাবমূর্তি নাকি ঋত্বিকের ঘরানার ছবির পরিপন্থী ছিল।

তবে বাইরের মানুষের এই ধারণা যে পুরোপুরি ভুল ছিল, তা প্রমাণিত হয় এক ঐতিহাসিক রাতে। অনস্ক্রিন কাজ না হলেও অফস্ক্রিন দুজনের মধ্যে তৈরি হয়েছিল দারুণ এক মিষ্টি সখ্যতা। সিনেমার জটিলতার বাইরে গিয়ে মাঝেমধ্যেই চলত নিছক আড্ডা। সেই বন্ধুত্বের জেরেই একদিন গভীর রাতে আচমকা ঋত্বিককে ফোন করে বসেন মহানায়িকা। জরুরি দরকারে সেই রাতেই নিজের বাড়িতে আসার অনুরোধ জানান সুচিত্রা। আর মহানায়িকার এমন আকস্মিক ডাক উপেক্ষা করার সাধ্য কার!

তৎকালীন এক নামজাদা বিনোদন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুচিত্রার ফোনের পর সেই রাতেই এক নতুন চিত্রনাট্যের খাতা বগলে নিয়ে মহানায়িকার বাড়িতে হাজির হন ঋত্বিক ঘটক। ছবির নাম রাখা হয়েছিল ‘রঙের গোলাম’। পরিচালকের মুখে ছবির স্ক্রিপ্ট শুনে এক বাক্যে অভিনয়ে সম্মতি জানিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন।

দুই প্রবাদপ্রতীম ব্যক্তিত্বের এই মেলবন্ধন ঘিরে টলিউডে তৈরি হয়েছিল প্রবল উদ্দীপনা। এমনকি ছবির প্রাথমিক শুটিংও শুরু হয়ে গিয়েছিল বলে জানা যায়। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে অজানা কোনও এক অদৃশ্য বাধার মুখে পড়ে আচমকাই বন্ধ হয়ে যায় সেই কাজ। সময়ের স্রোতে হারিয়ে যায় ছবির শুট হওয়া সেলুলয়েডের প্রিন্টও। তারপর আর কখনওই একসঙ্গে কাজ করা হয়ে ওঠেনি এই দুই দিকপালের। টলিউডের ইতিহাসে ঋত্বিক-সুচিত্রার সেই না-হওয়া ছবি এবং অপূর্ণ স্বপ্ন চিরকালের মতো রয়ে গেল এক রহস্যময় আক্ষেপের অধ্যায় হয়ে।

তবে সুচিত্রাকে নিয়ে ছবি না করার নেপথ্যে রয়েছে, আরেক গল্পও। শোনা যায়, ঋত্বিক নাকি সুচিত্রাকে বলেছিলেন, তুমি মহানায়িকা, তোমার গ্ল্য়ামারের ছটা আমার ছবির জন্য নয়। শোনা যায়, ঋত্বিকের মুখে এমন কথা শুনে দুঃখ পেলেও, দুজনের বন্ধুত্ব ছিল আজীবন অটুট।

Follow Us