AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

পুরুষ নয়, মহিলাদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি কেন বাড়ছে এত বেশি?

Woman-Heart Attack: ছেলেদের থেকে মেয়েদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি। সংসারের কাজ ও কেরিয়ার এক হাতে সামলাতে হয় মেয়েদের। পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ক্লান্তির পরিমাণ, শরীরে এবং মনের উপর ধকল অত্যন্ত বেশি। কাজের বাড়তি চাপই মহিলাদের হার্টের রোগের অন্যতম কারণ।

পুরুষ নয়, মহিলাদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি কেন বাড়ছে এত বেশি?
| Updated on: Jan 18, 2024 | 3:23 PM
Share

‘হার্ট অ্যাটাক’ শব্দটা শুনলেই চোখের সামনে বয়স্কদের ছবিই ভেসে উঠত একসময়। কিন্তু এখন এই ছবিটা বদলেছে। আজকাল কমবয়সিদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা বাড়ছে। শুধু তাই-ই নয়, আগে মনে করা হত, পুরুষদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এখন সেই চিত্রটাও বদলেছে। বরং, ছেলেদের থেকে মেয়েদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি। তবে, কম বয়সে ছেলেদের মধ্যে যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি রয়েছে, তা মেয়েদের মধ্যে নেই। মেনোপজ়ের দোরগোড়ায় পৌঁছনোর পরই হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা বাড়ে মহিলাদের মধ্যে। বিশেষত ৪০ পেরনোর পরই মহিলাদের মধ্যে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়ছে হু-হু করে।

সংসারের কাজ ও কেরিয়ার এক হাতে সামলাতে হয় মেয়েদের। পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ক্লান্তির পরিমাণ, শরীরে এবং মনের উপর ধকল অত্যন্ত বেশি। কাজের বাড়তি চাপই মহিলাদের হার্টের রোগের অন্যতম কারণ। ৪৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে মহিলাদের মেনোপজ় হয়। মেনোপজ়ের পরই দেহে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। এটাই অর্থাৎ ইস্ট্রোজেন হরমোনের ক্ষরণ কমে যাওয়াই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়াও বাড়তি মেদ বা ওবেসিটিও হার্টের অসুখ ডেকে আনে।

বিশিষ্ট চিকিৎসক পূষণ কুণ্ডু এ প্রসঙ্গে TV9 বাংলাকে বলেছেন, “পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩৫-৫০ বছরেও হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা ঘটে। কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে তা হয় না। মেনোপজ়ের আগে মহিলাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা খুব বিরল। মেনোপজ়ের পর এই সম্ভাবনাটা চলে যায়। তাই-ই মেনোপজের পর পুরুষের মতো মহিলাদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা সমান থাকে।”

মহিলাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের কোন-কোন ঝুঁকিগুলো কাজ করে, এই প্রসঙ্গে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ধীমান কাহালি TV9 বাংলাকে বলেছেন, “মহিলাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাই-কোলেস্টেরল, হাই-ট্রাইগ্লিসারাইড, হাই-লিপোপ্রোটিন। তার সঙ্গে যদি খুব মোটা (ওবেসিটি) হন এবং কায়িক পরিশ্রম যদি না থাকে আপনার দৈনন্দিনের জীবনে, তাহলে সমস্যা বাড়ে। যা পাচ্ছেন, তাই-ই খাচ্ছেন। ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত, কোলেস্টেরল ৩০০—এই ধরনের বিষয়গুলো মহিলাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।” এছাড়াও চিকিৎসকরা বলছেন, ধূমপানের অভ্যাস বাড়িয়ে দেয় হৃদরোগের আশঙ্কা।

পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গও আলাদা হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা, আর মহিলাদের অস্বাভাবিক ক্লান্তি। ছেলেদের ক্ষেত্রে দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, আর মেয়েদের ঘুমের ব্যাঘাত। চরম নার্ভাসনেস বা ভয়, মহিলাদের শ্বাসকষ্ট। মাথা ঘোরার সমস্যা হয় ছেলেদের, মহিলাদের পেটে ব্যথা বা বদহজম হয়। পুরুষদের নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার সমস্যা হয়, আর বুকে ব্যথা অনুভব করেন মহিলারা। শরীরের উপরের অংশে যন্ত্রণা হয় ছেলেদের, আর মেয়েদের পিঠের উপরের অংশে ব্যথা।পুরুষদের পেট ব্যথা বা বদহজমের সমস্যা দেখা যায়, আর মহিলাদের গলা, চোয়ালে যন্ত্রণা হয়।

Follow Us