
গর্ভাবস্থা মহিলাদের জন্য একটা সম্পূর্ণ অনন্য অনুভূতি। এটা আনন্দদায়ক ঠিকই, তবে অনেকগুলি চ্যালেঞ্জও সামনে আসে এর সঙ্গে। একটি সাধারণ সমস্যা যা অনেক মায়েদের অভিজ্ঞতা হতে পারে তা হল ফাঁপা পেট বা গ্যাসের সমস্যা। এটা এক এক সময় অনেকটা অস্বস্তিকর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আপনিও যদি এইরকম সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন, তাহলে আপনাকে সাহায্য করার জন্য পুষ্টিবিদ লভনীত বাত্রার কিছু নির্দেশিকা এখানে দেওয়া হল।
ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে বাত্রা বলেছেন, “গর্ভাবস্থা এমন একটি পর্যায় যেখানে শারীরিক পরিবর্তন হজমের গতি কমিয়ে দেয়। এর থেকে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যার সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব নয়, তবে সমস্যার পরিমাণ কিছুটা কমানো যেতে পারে।”
এটা কেন হয়?
যেহেতু গর্ভাবস্থাকে সমর্থন করার জন্য শরীর বেশি প্রজেস্টেরন হরমোন উৎপন্ন করে, তাই শরীরের পেশীগুলি রিল্যাক্সেশন মোডে যেতে থাকে। এই পেশিগুলির মধ্যে অন্ত্রের পেশীও রয়েছে যা ধীরে ধীরে হজম প্রক্রিয়ার গতি কমিয়ে দেয়। এর ফলে গ্যাস হয় আর পেট ফুলে যায়।
বাত্রার মতে, নিম্নলিখিত কিছু সহজ জিনিস যা অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে:
ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান:
ফাইবার অন্ত্রের মধ্যে জল নিয়ে আসে এবং মলকে নরম করতে সাহায্য করে। ২৫-৩০ গ্রাম উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার যেমন প্রুন, ডুমুর, কলা, শাকসবজি এবং দানা শস্য আপনার খাদ্যে যোগ করুন যাতে গ্যাসের সমস্যা দূর হয়।
হাইড্রেটেড থাকুন:
জল এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর তরল আপনার শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে।
আপনার খাবারে ঘি যোগ করুন:
ঘি অন্ত্রের পথ পরিষ্কার করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য আর পেট ফাঁপা সমস্যার ঝুঁকি কমায়।
রান্না করা খাবার খাওয়া:
গর্ভাবস্থায় শরীর খাবারকে সংশ্লেষ করতে অনেক বেশি সময় নেয়। এর ফলে খাবার হজম অনেক ধীর গতিতে হয়। রান্না করা খাবার সহজে চিবিয়ে খাওয়া যায়। এর ফলে খাবারের কিছুটা সংশ্লেষ চিবোনোর সময়েই হয়ে যায়।
সহজে হজমযোগ্য খাবার বেছে নিন:
মুগ ডাল এবং সুজি হালুয়ার মতো খাবার গর্ভাবস্থায় খুব ভাল কাজ করে। কারণ পাচনতন্ত্রের জন্য এই ধরনের খাবার সংশ্লেষ করতে কম পরিশ্রম করতে হয়। এর ফলে গ্যাস কম হয়।
শারীরিক কার্যকলাপ আবশ্যিক:
শারীরিক ক্রিয়াকলাপ এবং ব্যায়াম আপনার দৈনন্দিন রুটিনের একটি অংশ হওয়া উচিত।
অল্প খান, ঘন ঘন খান:
দিনে ৫-৬ বার ছোট ছোট মিল নেওয়া শুরু করুন। এতে আপনার শরীরের পক্ষে হজমের প্রক্রিয়াটি সহজ হবে।
গর্ভাবস্থায় নিজেকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখার চেষ্টা সবার আগে করুন। মানসিকভাবে নিজেকে সুস্থ রাখতে পারলে সেটাও পক্ষান্তরে হজমের প্রক্রিয়াকে অনেক সাবলীল করে তুলবে।
আরও পড়ুন: দূষণেও থাকুন ফিট! তার জন্য দরকার নিয়মিত শরীরচর্চা, বলছে সমীক্ষা