TMC-INDIA Alliance: ‘জোটে ছিল, আছে ও থাকবে তৃণমূল’, মমতার INDIA তৈরির দাবির পরই আশ্বাস ডেরেকের
Mamata Banerjee: ইন্ডিয়া জোটের সভায় যোগ না দিয়ে, তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্রের হয়ে প্রচার করেন তিনি। কৃ্ষ্ণনগরে প্রচার মঞ্চ থেকে দাঁড়িয়েই তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, "ইন্ডিয়া জোট আমি তৈরি করেছি। নামও আমার দেওয়া। ভোটের পর আমি দেখে নেব।”

নয়া দিল্লি: ভোটের মুখে দুই মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল ও হেমন্ত সোরেনের গ্রেফতারির প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অপব্যবহারের বিরোধিতা করতেই একজোট হয়েছিল বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। সেই রামলীলা ময়দান থেকেই বিশেষ বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। একদিকে যেখানে রবিবারই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় দাবি করেছেন, তিনিই ইন্ডিয়া জোট তৈরি করেছেন, সেখানেই ডেরেক বললেন, তৃণমূল ইন্ডিয়া জোটে ছিল, আছে এবং থাকবে। লোকসভার মুখেই যেখানে তৃণমূল জোট থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে বলে জল্পনা শুরু হয়েছিল, সেখানেই যাবতীয় সমালোচনা থামিয়ে দিলেন ডেরেক।
রবিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরে নির্বাচনী প্রচারে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্রের হয়ে প্রচার করেন তিনি। ইন্ডিয়া জোটের সভায় যোগ না দিয়ে, কৃ্ষ্ণনগরে প্রচার মঞ্চ থেকে দাঁড়িয়েই তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “ইন্ডিয়া জোট আমি তৈরি করেছি। নামও আমার দেওয়া। ভোটের পর আমি দেখে নেব।”
কেন্দ্রে জোট থাকলেও, বাংলায় যে সিপিআইএম, কংগ্রেস তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই লড়ছে, তা নিয়েও আক্রমণ করেন দলনেত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ” কিন্তু বাংলায় সিপিএম-কংগ্রেস-বিজেপি আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সিপিএম-কে ভোট দেওয়া মানে বিজেপি-কে ভোট দেওয়া। আরও একটা লেজুর মুসলিম পার্টি হয়েছে। সেটাকে ভোট দেওয়া মানে বিজেপিকে ভোট দেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা একলা লড়ছি। আমি শুনেছি সিপিএম কংগ্রেস ইন্ডিয়া জোটের হয়ে লড়ছে বলেছে। আর এখানে তো জোটই হয়নি। এখানে ঘোট হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী যেখানে এই কথা বলছেন, সেখানেই ইন্ডিয়া জোটের মঞ্চে তৃণমূলের প্রতিনিধি ডেরেক ও’ব্রায়েনের সুর কিন্তু নরম ছিল। সিপিআইএম বা কংগ্রেসকে আক্রমণ করেননি তিনি। বক্তব্য রাখতে উঠে প্রথমেই তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়টা স্পষ্ট করে দিতে চাই, তৃণমূল কংগ্রেস ইন্ডিয়া জোটে ছিল, আছে এবং থাকবে। এটা গণতন্ত্র বনাম বিজেপির লড়াই। এটা মোদীর গ্যারান্টির বিরুদ্ধে লড়াই, যার ওয়ারেন্টি শূন্য।”
প্রসঙ্গত, লোকসভা নির্বাচনে একসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল ইন্ডিয়া জোট। আগেই সেই জোট থেকে বিদায় নিতেছেন জোটের সূত্রধর নীতীশ কুমার। তাঁর দল জেডিইউ ফের এনডিএ জোটেই সামিল হয়েছে। বাংলায় কংগ্রেস তৃণমূলের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির আলোচনা করতে চাইলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘একলা চলো’র নীতিতেই স্থির থাকেন এবং জনগর্জন সভার মঞ্চ থেকে রাজ্যের ৪২টি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এরপরই আরও জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে হয়তো আর সম্পর্ক নেই তৃণমূল কংগ্রেসের।
