
নয়াদিল্লি: ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজরায়েলের সংঘাতে কার্যত জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। এই আবহে ভারতের ভান্ডারে আর কতদিনের অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। সেই জল্পনা নিয়ে সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ভারতের ভান্ডারে আর ২৫ দিনের অপরিশোধিত এবং পরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। একইসঙ্গে ওই সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, অপরিশোধিত তেল, এলপিজি এবং এলএনজি আমদানির জন্য বিকল্প পথ খতিয়ে দেখছে। দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে ওই সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লেও এই মুহূর্তে দেশে পেট্রল কিংবা ডিজেলের দাম বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই।
আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকে সংঘাত বেড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। একাধিক আরব দেশে মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এই মুহূর্তে তেল আমদানি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ।
ভারতের মোট তেলের চাহিদার প্রায় অর্ধেক সরবরাহের পথই অবরুদ্ধ। প্রত্যেকদিন ২.৫ থেকে ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতে আনা হয়। ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে তেল কেনে ভারত। মোট চাহিদার ৮৮ শতাংশই আমদানি করতে হয় ভারতকে।
মধ্যপ্রাচ্যে যখন সংঘাত বাড়ছে, তখন ভারতের তেল আমদানি নিয়ে চিন্তা বেড়েছে। ভারত আবার রাশিয়ার থেকে তেল কেনা কমিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তেল আমদানি কীভাবে হবে, তা নিয়ে সোমবারই বৈঠক করেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। মন্ত্রকের আধিকারিক এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির কর্মকর্তারা সেখানে ছিলেন। ওই বৈঠকে অপরিশোধিত তেল, এলপিজি এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ নিয়ে পর্যালোচনা করেন তাঁরা। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। এবং অন্য কোন উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল, এলপিজি এবং এলএনজি আমদানি করা যেতে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু, প্রশ্ন উঠছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকলে ২৫ দিনের অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেলের ভান্ডার শেষ হয়ে গেলে কী হবে?