Railway Track Explosion: ভারত-পাক সীমান্তের কাছে রেললাইনে বিস্ফোরণ, নাশকতার ছক কষেছিল কারা?
Rajasthan Railway Track Blast: ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি এই রেলপথ হওয়ায় বিস্ফোরণের পিছনে সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দুষ্কৃতী কিংবা দেশবিরোধী শক্তির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সবকিছু খতিয়ে দেখছে। বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা জানতেও তদন্ত চলছে।

শ্রীগঙ্গানগর (রাজস্থান): ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর জেলায় রেললাইনে বিস্ফোরণ। তীব্র বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রেললাইন। ভেঙে গিয়েছে লাইনের নীচে থাকা কংক্রিটের দু’টি ব্লক। পাশাপাশি রেললাইনের মাঝখানে প্রায় দু’ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিট নাগাদ অনুপগড়-সুরতগড় রেলপথের রামসিংহপুর থানা এলাকার ৫০ জিবি গ্রামের কাছে এই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই রেলপথ দিয়ে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন যাওয়ার প্রায় ৪৫ মিনিট পর বিস্ফোরণটি হয়।
ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছড়ায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় একাধিক নিরাপত্তা ও তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তে যোগ দেয় অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS), ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (CID), ডগ স্কোয়াড, ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL) এবং রেল কর্তৃপক্ষ। ওই রেলপথে ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়। বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়।
ভেঙে গিয়েছে কংক্রিটের দু’টি ব্লক, রেললাইনের নীচে গভীর গর্ত-
বিস্ফোরণের জেরে রেল পরিকাঠামোর যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। রেললাইনের নীচে থাকা কংক্রিটের দু’টি ব্লক সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে। পাশাপাশি লাইনের মাঝখানে প্রায় দু’ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ওই এলাকা পেরিয়ে যাওয়ার মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটায় নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। তবে কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে, নাকি পরিকল্পিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
নাশকতার আশঙ্কা খতিয়ে দেখছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি-
ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি এই রেলপথ হওয়ায় বিস্ফোরণের পিছনে সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দুষ্কৃতী কিংবা দেশবিরোধী শক্তির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সবকিছু খতিয়ে দেখছে। বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা জানতেও তদন্ত চলছে। তবে ফরেন্সিক পরীক্ষা ও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছেন না আধিকারিকরা।
ঘটনাস্থলে FSL ও ATS, বোমা বিস্ফোরণ কি না নিশ্চিত নয় পুলিশ-
পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ ও ATS-এর প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পরিদর্শন করেছেন। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃতি এবং সঠিক কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।
এটি বোমা বিস্ফোরণ কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে ওই আধিকারিক বলেন, “আমার দল এবং আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেখানে অন্যান্য আধিকারিকও উপস্থিত ছিলেন। FSL এবং ATS-এর দলও পৌঁছেছে। তদন্তের পরেই ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানানো সম্ভব হবে। এই মুহূর্তে এটিকে বোমা বিস্ফোরণ বা অন্য কিছু বলে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। আমরা শুধু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা জানার চেষ্টা করছি।”
সম্প্রতি ৭.৫ কেজি RDX উদ্ধারের ঘটনার সঙ্গে এই বিস্ফোরণের কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। রাজস্থানে সাম্প্রতিক কয়েকটি বিস্ফোরক সংক্রান্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে রেললাইনে বিস্ফোরণের বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কিছুদিন আগেই ভিলওয়ারায় বিস্ফোরক বোঝাই একটি পিকআপ গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ঘটনায় গাড়ির চালকের মৃত্যু হয়েছিল।
তবে ভিলওয়ারার বিস্ফোরণের সঙ্গে অনুপগড়-সুরতগড় রেলপথের বিস্ফোরণের কোনও যোগসূত্র এখনও খুঁজে পাননি তদন্তকারীরা। আপাতত ফরেন্সিক নমুনা এবং অন্যান্য সূত্রের ভিত্তিতে বিস্ফোরণের প্রকৃতি জানার চেষ্টা চলছে। রেল পরিকাঠামোকে পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
