বাজেট ২০২৬: আজকের চাপ কমিয়ে আগামীর ভিত গড়ার রূপরেখা
Union Budget 2026: এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে কেন্দ্র আর্থিক শৃঙ্খলার উপর জোর দিয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য আর্থিক ঘাটতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে GDP-র ৪.৩ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী FY31-এর মধ্যে সরকারি ঋণ GDP-র ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারতের অর্থনীতি আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

রবিবার ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। কেন্দ্রীয় এই বাজেটকে মোদী সরকার আখ্যা দিয়েছে এক ‘পলিসি ব্রিজ’ হিসেবে। যে সেতু ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ভবিষ্যতের উন্নত অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করবে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এই বাজেটে হঠাৎ কোনও বড় চমকের পথে না হেঁটে, আগের সফল নীতিগুলোর ধারাবাহিকতাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। লক্ষ্য স্পষ্ট, স্থিতিশীলতা বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধি।
আর্থিক শৃঙ্খলা ও বিশ্বাসযোগ্যতা-
বাজেট ২০২৬-এ সরকার আর্থিক শৃঙ্খলার উপর জোর দিয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য আর্থিক ঘাটতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে GDP-র ৪.৩ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে সরকারি ঋণ GDP-র ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারতের অর্থনীতি আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।
কর কাঠামোয় বড় কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। বরং ‘Income Tax Act 2025’ এনে কর আইনকে সহজ ও স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে সাধারণ করদাতা এবং ব্যবসায়ীরা নিয়ম বুঝতে গিয়ে অযথা সমস্যায় না পড়েন।
ইনফ্রাস্ট্রাকচারে রেকর্ড বরাদ্দ-
এই বাজেটে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ পেয়েছে পরিকাঠামো ক্ষেত্র। মোট ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় হবে রেল, সড়ক, জলপথ ও লজিস্টিক্স উন্নয়নে। নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর, ২০টি নতুন জলপথ এবং ৭টি হাই-স্পিড রেল করিডরের ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের ধারণা, এই বিনিয়োগ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
উৎপাদন ও প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য-
সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনকে ভবিষ্যতের কৌশলগত ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। *Semiconductor Mission 2.0-এর মাধ্যমে দেশীয় চিপ উৎপাদন ও গবেষণায় আরও জোর দেওয়া হবে। ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্ট উৎপাদনে বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে ৪০,০০০ কোটি টাকা। লক্ষ্য—ভারতকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করা।
MSME ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি-
MSME ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করতে ২০০টি পুরনো শিল্প ক্লাস্টার পুনরুজ্জীবিত করা হবে। Tier-II ও Tier-III শহরের ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ‘Corporate Mitras’ ব্যবস্থার মাধ্যমে আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হবে।
কৃষিতে সরকারের দৃষ্টি সরে এসেছে শুধু উৎপাদন থেকে আয়ের দিকে। উচ্চমূল্যের ফসল, রপ্তানিমুখী কৃষি এবং ‘National Fibre Scheme’-এর মাধ্যমে কৃষকদের আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ভবিষ্যতের নতুন উদ্যোগ-
বাজেটে কিছু সম্পূর্ণ নতুন পরিকল্পনাও রয়েছে। ‘Biopharma SHAKTI’ প্রকল্পে আগামী পাঁচ বছরে ১০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যাতে ভারত বায়োফার্মা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। এছাড়াও ওড়িশা, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে ‘Rare Earth Corridors’ গড়ে তোলার ঘোষণা করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি-
বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে TCS ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। এতে মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক চাপ কমবে। ১৭টি অত্যাবশ্যক ওষুধে কাস্টমস ডিউটি মকুব করার ফলে চিকিৎসা ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
কর ব্যবস্থায় আস্থা বাড়াতে ছোটখাটো ভুলে শাস্তি কমানো, ITR সংশোধনের সময়সীমা বাড়ানো-সহ একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে।
বাজেট ২০২৬ কোনও তাৎক্ষণিক সমাধানের বাজেট নয়। এটি ধীরে, পরিকল্পিতভাবে ভারতকে ভবিষ্যতের শক্তিশালী, প্রযুক্তিনির্ভর এবং কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক সুসংগঠিত রূপরেখা। চাইলে বলাই যায়—এটা আজকের ভারত থেকে আগামীর ভারতের দিকে যাওয়ার অর্থনৈতিক সেতু।
