
নয়াদিল্লি: ইরানজুড়ে জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট। মুখিয়ে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোনও মতেই প্রতিবাদ না-থামানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি। সাফ বলেছেন, ইরানের বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়াবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুধু একটাই শর্ত, উপড়ে ফেলতে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সরকারকে। এই আবহে অশনি সঙ্কেত দেখছে নয়াদিল্লি। ইরানের অস্থিরতার জেরে বহুস্তরীয় বিপদের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারত।
বিভিন্ন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামিকাল, শনিবার থেকেই ইরানে স্থিতু ভারতীয়দের উদ্ধারের কাজে লেগে পড়বে নয়াদিল্লি। সিএনএন নিউজ ১৮ তাঁদের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, সম্ভবত আগামিকালই ইরানে আটকে থাকা ভারতীয়দের আকাশপথে উড়িয়ে নিয়ে আসা হবে।
এই মর্মে সেখানে আটকে থাকা পড়ুয়াদের বাবা-মায়েরা সিএনএন নিউজ ১৮-কে জানিয়েছে, প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামিকাল সকাল ৮টার মধ্যেই ভারতীয় পড়ুয়াদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। সঙ্গে যাবতীয় নথিপত্র রাখতে বলেছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে কাদের ভারতের ফেরানো হবে, সেই নিয়ে তালিকা তৈরি হচ্ছে। তারপরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও ইরানের সরকারের থেকেও অনুমতি নেওয়া বাকি রয়েছে।
অগ্নিগর্ভ ইরান। পরিণত হয়েছে মৃত্যুপুরীতে। বিভিন্ন ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ইরানের রাজধানী তেহরানে রাস্তার উপরে সাজানো রয়েছে সারি সারি মৃতদেহ। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ রূপ নিয়ে সংঘাতের। সরকার বনাম সাধারণ। যার জেরে বন্ধ ইন্টারনেট, দেশজুড়ে ব্ল্যাক-আউট। ফলত, ভারতীয় পড়ুয়াদের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখতে সমস্যা হচ্ছে দূতাবাসের। তবে সেই বাধা পেরিয়ে কোনও ক্রমে পড়ুয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে ইরানে স্থিতু ভারতীয় দূতাবাস।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি ভারতীয়দের উদ্দেশে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল কেন্দ্র। তাতে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যে সকল ভারতীয়রা ইরানে রয়েছেন, তাঁরা যেন তেন প্রকারেণ দেশে ফিরে আসুন। যাঁরা ভারতে রয়েছেন তাঁদের ইরানে যেতে বারণ করেছে নয়াদিল্লি।