
নয়াদিল্লি: বলেছিলেন ১৫ মিনিটের মধ্য়ে বাড়ি ফিরে যাবে। ছেলের প্রথম বিবাহবার্ষিকী, তাই পরিবারের সবাই ছোট করে একটা সারপ্রাইজ তৈরি করেছিল। কিনে আনা হয়েছিল কেক, তৈরি ছিল খাবার। কিন্তু সেই ১৫ মিনিট পরিণত হল কয়েক ঘণ্টায়। তাও ফিরল না সে।
সকালে ১৫ ফুট গভীর গর্ত থেকে উদ্ধার হল কমল ধ্য়ানীর দেহ। নিষ্প্রাণ শরীরের পাশেই পড়েছিল বাইকটি। কমলের গোটা শরীরে কাদায় ঢেকে গিয়েছে। কিন্তু মাথায় রয়ে গিয়েছে লাল রঙা হেলমেটটা। রাজধানী রাস্তায় মারণ-গর্ত প্রাণ নিল তাঁর। ঘটনা দিল্লির জনকপুরী এলাকার। সেখানে সরকারি কাজের জন্য রাস্তার মাঝে একটি ১৫ ফুটের গর্ত খুঁড়েছিল দিল্লি জল বোর্ড। তাতেই পড়ে গিয়ে মৃত্যু হল কমলের।
মাথায় হেলমেট, গায়ে রাইডিং জ্যাকেট, হাতে গ্লাভস এবং পায়ে জুতো। বাইক চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও গাফিলতিই রাখেননি তিনি। কিন্তু গাফিলতি ছিল সেই রাস্তায়। এদিন কমলের জমজ ভাই করণ বলেন, “ও মাকে রুটি তৈরি করে রাখতে বলেছিল। আমাকে বলেছিল ১৫ মিনিটের মধ্য়ে বাড়ি ঢুকছে। ও চলে এলেই আমরা কেক কাটতাম। কিন্তু তা আর হল না! বরং সারারাত খুঁজে গেলাম ওকে।”
১৫ মিনিট বলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে যায় কমল আসে না। সেই সময় প্রথমে তাঁকে ফোন করে করণ। কিন্তু ফোন তোলে না কমল। তারপর যোগাযোগ করে তাঁর অফিসে। তারা জানিয়ে দেয়, ও রওনা দিয়েছে। অবশেষে পুলিশের কাছে দ্বারস্থ হয় পরিবার, কিন্তু মধ্য়রাতে তারপরেও কমলের হদিশ পায়নি পরিবার। শোরগোল তৈরি হয় সকালে। জনকপুরীতে জল বোর্ডের খোঁড়া গর্তে উদ্ধার হয় দেহ। খবর দেওয়া হয় কমলের পরিবারকে।
সাংবাদিকদের করণ জানিয়েছেন, “আমি খবর পেয়েছিলাম। কিন্তু প্রথমেই মাকে কিছু বলিনি। এটা শোনার ক্ষমতা তাঁর নেই। বাবা সারারাত ধরে কমলকে খুঁজেছে। আমরা ওকে পেয়েছি, কিন্তু নিষ্প্রাণ অবস্থায়। একটা প্লাস্টিকের ব্যাগে ওর দেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে।” এই ঘটনার পরে প্রশ্নের মুখে পড়েছে দিল্লি জল বোর্ড। রাস্তার মাঝে অত বড় গর্ত করার পরে সেটিকে ঘিরে সতর্কমূলক ব্য়বস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।