Maha Kumbh Missing: মহাকুম্ভে গিয়ে ‘হারিয়ে গেলেন’ ৫৪ হাজার পুণ্যার্থী, নিখোঁজদের ‘ঘর ওয়াপসি’ করল AI
Maha Kumbh Missing: মহাকুম্ভে আগত পুণ্যার্থীর সংখ্যা ৬০ কোটিরও বেশি। মেলা শুরু হওয়ার আগে এই সংখ্যা এতটা যেতে পারে বলে আগাম টের পেয়েছিল তারা। আর এই কোটি কোটি মানুষের সমাগমের জেরে তৈরি হওয়া ভিড়ের মধ্য়ে যে কেউ কেউ হারিয়েও যেতে পারে, তাও ভালই বুঝতে পারছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ-প্রশাসন।

প্রয়াগরাজ: বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে একাধিক মিল খুঁজে পেলেই বলে থাকে, ‘তুই আমার কুম্ভে হারিয়ে যাওয়া ভাই…।’ বছর বছর ধরে লোকমুখে একে অপরের মধ্যে মিল বোঝাতে এই বাক্যের প্রচলন রয়েছে। এককালে কুম্ভে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার বাড়ন্ত পরিসংখ্যান ঘিরেই প্রচলন হয়েছিল এই আপ্তবাক্যের। চলতি বছরেও দেখা গিয়েছে, এমন ছবি। যেখানে হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে স্ত্রী-সহ পরিবারের এক সদস্যকে দড়ি দিয়ে নিজের বেঁধে রেখেছেন এক ব্যক্তি।
তবে মানুষের হাতে হাতে ফোন চলে আসার পর এই মেলা গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা অনেকটাই কমেছে। তাছাড়াও, আগের তুলনায় বেড়েছে নিরাপত্তা। যার জেরে কেউ যদি নিখোঁজ হয়েও যায়, তবে তাঁকে খুঁজে পাওয়া খুব একটা দুর্লভ ব্যাপার, এমনটা নয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩ সালেও কুম্ভমেলায় গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় দেড় হাজার পুণ্যার্থী। যাদের আর খোঁজই পাননি পরিবাররা।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, চলতি বছরের মহাকুম্ভে আগত পুণ্যার্থীর সংখ্যা ৬০ কোটিরও বেশি। মেলা শুরু হওয়ার আগে এই সংখ্যা এতটা যেতে পারে বলে আগাম টের পেয়েছিল তারা। আর এই কোটি কোটি মানুষের সমাগমের জেরে তৈরি হওয়া ভিড়ের মধ্য়ে যে কেউ কেউ হারিয়েও যেতে পারে, তাও ভালই বুঝতে পারছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ-প্রশাসন। যেমন, ভাবনা, তেমনটাই হল।
রিপোর্ট বলছে, চলতি বছর মহাকুম্ভে কোটি কোটি মানুষের সমাগমের জেরে হারিয়ে গিয়েছিলেন ৫৪ হাজার ৩৫৭ জন। কিন্তু, পরিবারের হাতছাড়া হলেও তাদেরকে গোটা জীবনের জন্য নিখোঁজ হতে দেয়নি প্রশাসন। মেলা শেষের আগেই আবার নিখোঁজদের আবার ঘরে ফিরিয়ে দিয়েছে তারা। আর এই কাজে প্রশাসনের দোসর হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
কীভাবে হল ‘ঘর ওয়াপসি’?
জানা গিয়েছে, মহাকুম্ভে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে রুখতে মেলা প্রাঙ্গনজুড়ে মোট ১০টি ডিজিটাল লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার বসিয়েছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের মাধ্যমে এই সেন্টারগুলি থেকে নিখোঁজদের খোঁজা ও ‘ঘরে ফেরানোর’ ব্যবস্থা করে পুলিশ-প্রশাসন। মেলা প্রাঙ্গনের ‘খোয়া পায়া’ সেন্টার ও ‘ভুল ভাটকে’ সেন্টার থেকেই চলছিল এই ঘরে ফেরানোর কাজ। মূলত, মৌখিক ভঙ্গিমা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহারেই চলছিল নিখোঁজদের ‘ঘর ওয়াপসি’।
একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরে মহাকুম্ভের প্রথম দিনেই গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন প্রায় ২৫০ জন পুণ্যার্থী। ৪৫ দিন পার করতে করতে এই নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়ায় মোট ৩৫ হাজার। শেষ তারিখ পর্যন্ত হারিয়ে গিয়েছিল ৫৪ হাজারের অধিক পুণ্যার্থী। কিন্তু তাদের প্রত্যেককেই এই ডিজিটাল সেন্টার মাধ্যমে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

