AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

SIR: যদি সত্যিই মার্জিন ২ শতাংশ আর ডিলিটেড ভোটার ১৫ শতাংশ হয়, কী হবে? কী বলছেন আইনজীবীরা

Supreme Court: এসআইআর মামলার একটি শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ভোটের মার্জিন আর বাতিল হওয়া ভোটারের সংখ্যার ফারাক মনে করিয়ে দেন। বলেন, "যদি ১০ শতাংশ ভোটের মার্জিনে কেউ জয়ী হন, আর ১০ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে না পারেন, তাহলে কী হবে? যদি জয়ের মার্জিন ২ শতাংশ হয়, আর ১৫ শতাংশ ম্যাপড ভোটার ভোটই না দিতে পারেন, তাহলে অবশ্যই আমরা বিষয়টায় নজর দেব।”

SIR: যদি সত্যিই মার্জিন ২ শতাংশ আর ডিলিটেড ভোটার ১৫ শতাংশ হয়, কী হবে? কী বলছেন আইনজীবীরা
আইনজীবীরা কী বলছেনImage Credit: TV9 Bangla
| Updated on: Apr 21, 2026 | 1:04 AM
Share

নয়া দিল্লি: একসঙ্গে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়ার ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই ঘোষণার ৬ মাস দেখা গেল, সব জায়গায় এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও পশ্চিমবঙ্গে জটিলতা রয়েই গিয়েছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি, সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট পেরিয়ে এখন জট গিয়েছে ট্রাইব্যুনালে। তালিকায় নাম ওঠাটাই বড় কথা নয়, প্রশ্ন উঠেছে ভোটাধিকার নিয়ে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তুলেছেন ভোটের মার্জিন নিয়েও।

কী নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট?

পশ্চিমবঙ্গে মোট প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। ৩৪ লক্ষ ভোটার নাম তোলার জন্য আবেদন জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালে। ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটের আগে এতজন ভোটারের নামের নিষ্পত্তি হওয়া কার্যত অসম্ভব। সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানিতে বারবার প্রশ্ন উঠেছিল, নাম নিষ্পত্তি হলে কি ভোট দেওয়া সম্ভব? অবশেষে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুসারে নিষ্পত্তি হলে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

‘ভোটের মার্জিনের থেকে বাতিল ভোটারের সংখ্যা বেশি হলে…’

এসআইআর মামলার একটি শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ভোটের মার্জিন আর বাতিল হওয়া ভোটারের সংখ্যার ফারাক মনে করিয়ে দেন। বলেন, “যদি ১০ শতাংশ ভোটের মার্জিনে কেউ জয়ী হন, আর ১০ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে না পারেন, তাহলে কী হবে? যদি জয়ের মার্জিন ২ শতাংশ হয়, আর ১৫ শতাংশ ম্যাপড ভোটার ভোটই না দিতে পারেন, তাহলে অবশ্যই আমরা বিষয়টায় নজর দেব।” কমিশনের উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, “যদি কোনও সচেতন ভোটারের নাম লিস্টে না থাকে, তাহলেও তাঁর কথা ভুলে গেলে চলবে না।”

বিচারপতি বাগচীর এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য কী বার্তা দিল? যদি সত্যিই এমন কিছু ঘটে তাহলে কি সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করবে? এই একটা বার্তা কি সব রাজনৈতিক দলের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠল?

কী হতে পারে, কী বলছেন আইনজীবীরা?

আইনজীবী অরিন্দম দাস, যিনি বাতিল হওয়া ভোটারদের জন্য সুপ্রিম কোর্টে লড়ছেন, তাঁর মতে, ভারতের গণতন্ত্র প্রশ্নের মুখে পড়ে যাবে। তিনি বলেন, “এটা তো সত্যি। যদি ৫ শতাংশ ভোটের মার্জিনে যদি কেউ জয়ী হয়, আর যদি ৫ শতাংশ ভোটার ভোটই দিতে না পারে, তাহলে তাদের অধিকার-মতামতের কী হবে?” ভোট একবার হয়ে গেলে আর কিছু করার থাকে না বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে, আইনজীবীর কথায়, এটা গণতন্ত্রের লজ্জা। ভারত বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ, এই দেশের যে কোনও ভোটের দিকে তাকিয়ে থাকে গোটা বিশ্ব। তাই এই বিশ্বের সামনে একটা খারাপ নিদর্শন তুলে ধরা হবে।

সংবিধান অনুসারে ইলেকশন পিটিশন করার সুযোগ আছে

উদাহরণ দিয়ে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, “যদি জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে পরাজিত প্রার্থীর ভোটের মার্জিন ৫০০০ হয় আর ডিলিট ভোটার ১৫০০০ হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে যে তারা তো জয়-পরাজয়ের নির্ণায়ক হতে পারত। বিচারপতি বাগচীর মন্তব্য তুলে ধরে শামিম বলেন, “নির্দেশ না দিলেও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন বিচারপতি। ভোটের পর যদি দেখা যায় বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ভোটের ফলাফলের উপর প্রভাব বিস্তার করছে, তাহলে নিশ্চয় সুপ্রিম কোর্ট নির্দিষ্ট নির্দেশ দেবেন।”

সেই সঙ্গে আইনজীবী শামিম মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভোট নিয়ে যদি কেউ অসন্তুষ্ট হন, তাহলে আদালতে ইলেকশন পিটিশন বা ভোট সংক্রান্ত আবেদন করার সুযোগ রয়েছে সংবিধানে। এই ক্ষেত্রেও সেটা হতে পারে। আবার এমন উদাহরণের কথাও তিনি বলছেন, যে দেশে ইলেকশন পিটিশনের বিচার সম্পূর্ণ হয়নি। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নন্দীগ্রাম ভোট সংক্রান্ত মামলার কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। তবে আইনি পথে যে সমাধান হবে, সে ব্যাপারে আশাবাদী শামিম।

Follow Us