Supreme Court: সুপ্রিম কোর্টে বিরাট নাটক! প্রধান বিচারপতিকে গালিগালাজ, কাগজ ছুড়ে মারলেন মামলাকারী…
Supreme Court News: পিটিশনার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নাম করে গালিগালাজ করতে থাকেন, হাওয়ায় কাগজ ছুড়ে মারেন। এই দৃশ্য দেখে সঙ্গে সঙ্গে আদালতের নিরাপত্তারক্ষীরা ছুটে আসেন এবং ওই ব্য়ক্তিকে ধরে নিয়ে আদালত থেকে বের করে দেন। ডিএসপির অফিসে বেশ কিছুক্ষণ আটকে রাখা হয়েছিল।

নয়া দিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত নাটক! সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (CJI Surya Kant)-কেই গালিগালাজ করলেন এক ব্যক্তি। কোর্ট রুমে ছু়ড়ে ফেললেন কাগজ। শেষে বাধ্য হয়ে নিরাপত্তারক্ষীরা ওই ব্যক্তিকে জোর করে শীর্ষ আদালত থেকে বের করে দেন।
আজ, শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে এই ঘটনা ঘটে। প্রবাল প্রতাপ নামক এক পিটিশনার সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চের সামনে হাজির হন। নিজেকে ‘সার্বভৌম’ হিসাবে ঘোষণা করেন এবং বিচারপতিদের ‘বিচার ব্যবস্থার দাস’ উল্লেখ করেন। ওই ব্যক্তি বলেন, “”মিস্টার জুডিশিয়াল সার্ভেন্ট, আমি আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছি, লখনউয়ের এএসপি-র বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের একটি চক্র (সিন্ডিকেট) পরিচালনার অভিযোগে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিন।”
এই কথা শুনে বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথন ও বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ অবাক হয়ে যায়। বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথন বিস্মিত হয়ে বলেন, “আপনি আমায় অর্ডার করছেন? আমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন?”
এখানেই থামেননি পিটিশনার। এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নাম করে গালিগালাজ করতে থাকেন, হাওয়ায় কাগজ ছুড়ে মারেন। এই দৃশ্য দেখে সঙ্গে সঙ্গে আদালতের নিরাপত্তারক্ষীরা ছুটে আসেন এবং ওই ব্য়ক্তিকে ধরে নিয়ে আদালত থেকে বের করে দেন। ডিএসপির অফিসে বেশ কিছুক্ষণ আটকে রাখা হয়েছিল।
তবে এই ধরনের আচরণের পরও শীর্ষ আদালত ওই পিটিশনারের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিচারপতি বিশ্বনাথন বলেন, “আমরা ওঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করতে বলছি না। মামলার মূল বিষয়টি বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আদেশে হস্তক্ষেপের কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। তাই স্পেশাল লিভ পিটিশন (SLP) খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।”
এরপরে বিচারপতি বলেন, “মানসিকভাবে ওঁ খুবই বিপর্যস্ত…আমাদের শুধু সমবেদনা রয়েছে ওঁর প্রতি”।
জানা গিয়েছে, লখনউয়ের স্পেশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (কাস্টমস)-এর একটি আদেশের বিরুদ্ধে এলাহাবাদ হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেছিলেন আবেদনকারী। তবে হাইকোর্ট সেই রিট খারিজ করে দেয়।
আবেদনকারীর দাবি ছিল, তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হোক। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট এফআইআরের নির্দেশ না দিয়ে অভিযোগটিকে ব্যক্তিগত অভিযোগ হিসাবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।
হাইকোর্ট জানায়, ম্যাজিস্ট্রেটের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আবেদনকারীর কাছে অন্য আইনি পথ খোলা রয়েছে। তাই তাঁকে উপযুক্ত আদালতে বা ফোরামে আবেদন করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়।
