
নয়া দিল্লি: মঙ্গলবার সকাল থেকে বিরোধী জোটের নির্বাচন কমিন অভিযান ঘিরে উত্তপ্ত রাজধানী দিল্লি। প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে ধর্নায় বসার পর রাতে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করেছে পুলিশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) সঙ্গে দেখা করার দাবি জানিয়ে এদিন একটানা ধর্নায় বসেছিলেন রাহুলরা। আর এবার তাঁরা আটক হওয়ার পর কমিশনের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হল, রাহুল যে দাবি জানিয়েছিলেন, তা অস্বাভাবিক।
কমিশনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল যে আজ বিকেল ৪টে পর্যন্ত কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করার কোনও আবেদন যায়নি তাদের কাছে। বিকেল ৪ টের সময় দিল্লি পুলিশ জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে জানায়, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সাংসদের প্রতিনিধি দল কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চায়। পুলিশের মাধ্যমে কমিশন জানিয়ে দেয়, প্রোটোকল মেনে বৈঠকের জন্য আবেদন করতে হবে।
কমিশনের দাবি, এরপরই বিরোধী সংসদদের তরফে ‘অস্বাভাবিক’ দাবি পেশ করা হয়। কমিশনের দাবি, দাবি জানানো হয়, বিরোধীদের প্রস্তাবিত প্রতিনিধি দলে থাকবেন ২৪০ জন সাংসদ। প্রসঙ্গত, কমিশন বরাবর সর্বোচ্চ পাঁচজনের প্রতিনিধি দলকে দেখা করার অনুমতি দেয়। দ্বিতীয়ত, আরও দাবি ছিল, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অফিসে যাবে না বিরোধী সাংসদরা, বিরোধীদের প্রস্তাব বৈঠক করতে হবে পার্লামেন্ট এনেক্সিতে। সাধারণত যে কোনোও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কমিশন অফিসেই দেখা করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। রাহুল গান্ধীর এই প্রস্তাব সম্পূর্ণ নাকচ করে দেয় জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
এরপর কমিশনের তরফ থেকে পাল্টা প্রস্তাব দেওয়া হয় যে কমিশনের তরফ থেকে একজন শীর্ষ আধিকারিককে রাহুল গান্ধীর ধর্নাস্থলে পাঠানো হবে। তিনি সাংসদদের সঙ্গে কথা বলে ধর্নাস্থল থেকে মেমোরান্ডাম গ্রহণ করবেন। কমিশনের এই বিকল্প প্রস্তাব প্রত্যাহার করেন রাহুল গান্ধী বা বিক্ষোভরত সাংসদরা। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সব প্রোটোকলকেও সমান গুরুত্ব দেয়।