Ex-CJI DY Chandrachud: ‘বিচারে দেরি হলে জামিন পাওয়াই নিয়ম…’, উমর খালিদের প্রসঙ্গে বড় মন্তব্য প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের
Umar Khalid Case: প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেন, "বিচারপতি হিসাবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে বলছি। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে জামিন পাওয়াই অধিকার। আমাদের আইনও এভাবেই তৈরি, যেখানে বলা হয় বিচারে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্তই নিরাপরাধ।

নয়া দিল্লি: দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে জামিন পাওয়াই অধিকার, আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়। একইসঙ্গে জামিন দেওয়ার জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি কতটা জড়িত, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব আদালতের, এ কথাও বলেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি। উমর খালিদের জেলবন্দি থাকা প্রসঙ্গে এ কথা বলেন ডিওয়াই চন্দ্রচূড়।
২০২০ সালে দিল্লি দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হন দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতা উমর খালিদ। তারপর থেকে জেলেই রয়েছেন। সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে জামিনের আবেদন করেছিলেন উমর সহ সাতজন অভিযুক্ত। মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি দাঙ্গায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার পাঁচজন- গুলফিশা ফতিমা, মিরান হায়দর, শিফা উর রহমান, মহম্মদ সালিম খান ও শাদাব আহমেদকে জামিন দেওয়া হয়। তবে উমর খালিদ ও সার্জিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়।
জয়পুর লিটেরেচার ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়। সেখানেই তাঁকে এই প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। উত্তরে তিনি বলেন, “বিচারপতি হিসাবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে বলছি। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে জামিন পাওয়াই অধিকার। আমাদের আইনও এভাবেই তৈরি, যেখানে বলা হয় বিচারে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্তই নিরাপরাধ। বিচারের আগে জামিন কোনও শাস্তি হতে পারে না। যদি কেউ পাঁচ-সাত বছর ধরে বিনা বিচারেই জেলে বন্দি থাকে এবং তারপর নিরাপরাধ প্রমাণিত হয়, তাহলে ওই হারিয়ে যাওয়া সময়ের ক্ষতিপূরণ কীভাবে করা হবে?”
কোন ক্ষেত্রে জামিন অগ্রগণ্যতা পাবে না, তার তিনটি উদাহরণও দেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি। প্রথম উদাহরণে তিনি বলেন যে একজন ধর্ষক-খুনি যে সাতটি খুনের জন্য গ্রেফতার হয়েছে, সে সমাজে ফিরে গেলে আবার অপরাধ করতে পারে। তার জামিন খারিজ করা যায়। দ্বিতীয়ত, যদি জামিন পাওয়ার পর কোনও ব্যক্তি যদি বিচার প্রক্রিয়ায় হাজির না হয় এবং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাহলেও জামিন খারিজ করা যায় এবং তৃতীয়ত, যদি কেউ প্রমাণ নষ্ট করে।
তিনি বলেন, “যদি উপরোক্ত কোনটাই না হয়, তাহলে জামিন পাওয়াই নিয়ম। সমস্যা হল আজকের জাতীয় নিরাপত্তা আইন নিরাপরাধকে বদলে অপরাধী করে দিয়েছে। আদালতকে দেখতে হবে যে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সত্য়িই জড়িয়ে রয়েছে কি না এবং আটক করা যুক্তিযুক্ত কি না। নাহলে সাধারণ মানুষ বছরের পর বছর ধরে জেলে পচবে।”
