Kevin Pietersen Praises PM Modi: ‘এখন আরও বড় করে ভাবে ভারত’, প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রশংসা কেভিন পিটারসেনের
Kevin Pietersen on India's Transformation Under PM Modi: কেভিন পিটারসেনের মতে, ভারতীয়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আন্তর্জাতিক স্তরে সেরাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। পিটারসেনের মতে, মোদীর নেতৃত্ব এবং বড় স্বপ্ন দেখার মানসিকতা আরও আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া ভারতের উত্থানে ভূমিকা রেখেছে।

নয়াদিল্লি: এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক কেভিন পিটারসেন। মোদীর প্রশংসার পাশাপাশি ভারতের পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, বর্তমানে ভারত আরও আত্মবিশ্বাসী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অনেক বেশি আগ্রহী। সোমবার (২৬ অক্টোবর) হিন্দুস্তান টাইমস-এ প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে ২০০৩ সাল থেকে ভারতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা স্মরণ করেছেন পিটারসেন। খেলাধুলো, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ভারতের পরিবর্তনের পিছনে মোদীর নেতৃত্বের অবদানের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
এক্স হ্যান্ডলে নিজের নিবন্ধের একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ট্যাগ করেছেন পিটারসেন। সেখানে তিনি লেখেন, “আমি যে ভারতকে চিনি এবং ভালোবাসি!” সঙ্গে ছিল প্রধানমন্ত্রীকে উল্লেখ করে একটি ট্যাগ এবং প্রণামের ইমোজি। তাঁর নিবন্ধটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী—সরকারি নেতৃত্বে নরেন্দ্র মোদীর ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর দফতরও নিবন্ধটি শেয়ার করে ভারতের উন্নয়ন সম্পর্কে পিটারসেনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে।
সরকারের প্রধান হিসেবে মোদীর ২৫ বছর নিয়ে কী বললেন কেভিন পিটারসেন?
২০০৩ সালে প্রথম ভারতে আসার কথা স্মরণ করে নিবন্ধটি শুরু করেছেন পিটারসেন। সেই সময় নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দু’বছর কাটিয়ে ফেলেছেন। মোদীর রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে ক্রিকেটের দীর্ঘ ইনিংসের তুলনা করেছেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক। তাঁর কথায়, ২০১৪ সালে মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ব্রিটেনে ছ’জন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব সামলেছেন। ভারতে বারবার আসার সুবাদে দেশের পরিবর্তন খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিটারসেন।
তাঁর মতে, ভারতীয়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আন্তর্জাতিক স্তরে সেরাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। পিটারসেনের মতে, মোদীর নেতৃত্ব এবং বড় স্বপ্ন দেখার মানসিকতা আরও আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া ভারতের উত্থানে ভূমিকা রেখেছে।
ভারতীয় ক্রিকেট থেকে মহিলা খেলাধুলো, পরিবর্তনের কথা পিটারসেনের মুখে-
পিটারসেনের নিবন্ধের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রের সাফল্য। এক সময় ভারতীয় ক্রিকেটের সাফল্য হাতে গোনা কয়েক জন অসাধারণ ক্রিকেটারের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল ছিল বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। কিন্তু বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেটে প্রতিভার গভীরতা অনেক বেশি। নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটাররা আরও আত্মবিশ্বাস ও প্রস্তুতি নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন বলে তাঁর পর্যবেক্ষণ।
ভারতে মহিলা ক্রিকেটের প্রসার ও সাফল্য নিয়েও বিশেষ প্রশংসা করেছেন পিটারসেন। তাঁর মতে, মহিলা ক্রিকেটের এই অগ্রগতি শুধু ভারতের জন্য নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের জন্যও ইতিবাচক। অ্যাথলেটিক্স, শুটিং, কুস্তি, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন এবং হকিতেও ভারতের অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন তিনি। পিটারসেনের মতে, উন্নত ক্রীড়া পরিকাঠামো, ফিটনেসের মান বৃদ্ধি এবং পেশাদার প্রশিক্ষণের সুযোগ ভারতীয় খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সাহায্য করছে।
এই পরিবর্তনের একটি অংশের সঙ্গে মোদীর খেলাধুলোর প্রতি আগ্রহ এবং ‘ফিট ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের যোগসূত্র দেখেছেন প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ আরও বেশি মানুষকে শরীরচর্চা ও ফিটনেসের বিষয়ে সচেতন হতে উৎসাহিত করেছে।
ভারতের পরিকাঠামো ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে মুগ্ধ পিটারসেন-
ভারতের পরিকাঠামো ও প্রযুক্তিক্ষেত্রের পরিবর্তন নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন পিটারসেন। বিমানবন্দর, সড়ক, মেট্রো ব্যবস্থা এবং আতিথেয়তার মানের উন্নতির কথা তুলে ধরেছেন তিনি। ভারতে প্রথম আসার সময়কার অভিজ্ঞতার সঙ্গে সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতার তুলনাও করেছেন এই ক্রিকেটার। পিটারসেনের কথায়, ভারত সম্পর্কে তাঁর ব্রিটিশ বন্ধুদের আলোচনার বিষয়বস্তুতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
আগে ভারতের প্রসঙ্গ উঠলে খাবার, ভিড় এবং আবহাওয়া নিয়ে আলোচনা হত। কিন্তু বর্তমানে ভারতের কোভিড-১৯ টিকা রফতানি, স্টার্টআপ, চন্দ্র অভিযান এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে বেশি কথা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। গুজরাটের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম এবং স্ট্যাচু অফ ইউনিটিকে ভারতের বড় মাপের প্রকল্প গ্রহণের মানসিকতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন পিটারসেন। তাঁর মতে, এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার মধ্যে আরও বড় পরিসরে চিন্তা করার প্রবণতা প্রতিফলিত হয়, যা মোদীর নেতৃত্বের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও ভারতের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা-
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে একাধিকবার নিজের মতামত জানিয়েছেন পিটারসেন। তাঁর নিবন্ধের আর একটি অংশে ভারতের বিপন্ন প্রাণীদের রক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে। কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান সফর এবং সেখানে গন্ডার সংরক্ষণের কাজ প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেছেন তিনি। ভারতে চিতা পুনঃপ্রবর্তন কর্মসূচি এবং গুজরাটের এশীয় সিংহ সংরক্ষণের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেছেন পিটারসেন।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে মোদীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের সময় আলোচনার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। বিশেষ করে ভারতে চিতা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দু’জনের কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার। বড় বিড়াল প্রজাতির প্রাণীদের সংরক্ষণে বিভিন্ন দেশকে একজোট করার লক্ষ্যে গঠিত ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স প্রতিষ্ঠায় ভারতের ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন পিটারসেন।
কেভিন পিটারসেনের নিবন্ধ শেয়ার প্রধানমন্ত্রীর দফতরের-
পিটারসেনের মন্তব্যকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর মতামতধর্মী নিবন্ধটি এক্স হ্যান্ডলে শেয়ার করেছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)। পোস্টে প্রাক্তন ক্রিকেটারের পর্যবেক্ষণের মধ্যে ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রের সাফল্য, প্রযুক্তিক্ষেত্রের প্রসার এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রচেষ্টার বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে।
