Gujarat Scam : অ্যাপ ক্যাব চালকের অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেন! চক্ষু চড়কগাছ ইডির
Gujarat Scam : গুজরাটের আহমেদাবাদের বাসিন্দা ওই অ্যাপ ক্যাব চালকের নাম প্রদীপ ওড়ে। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০০ কোটি টাকা লেনদেনের বিষয়টা নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেন ইডি অফিসাররা। গভীর তদন্ত শুরু হয়। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ওই ক্যাবচালকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ক্রিকেট বেটিং ও শেয়ারবাজারের সঙ্গে যুক্ত টাকা অন্য জায়গায় পাচার করা হচ্ছে।

আহমেদাবাদ : পেশায় অ্যাপ ক্যাব চালক। মাসিক আয় ১০ হাজার কিংবা ১২ হাজার। কিন্তু, সেই চালকের অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। অঙ্কটা মোটেই ১০ বা ২০ কোটির ঘরে নয়। ৩০০ কোটি টাকা। যা হয়তো আপনার ধারণারও বাইরে। গুজরাটের এই ঘটনা সামনে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে। কীভাবে অ্যাপ ক্যাব চালকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এত টাকা লেনদেন হচ্ছে? তদন্তে নেমেই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারী অফিসারদের। প্রায় ৫০০ কোটির দুর্নীতি চক্রের হদিস পেয়েছে ইডি।
গুজরাটের আহমেদাবাদের বাসিন্দা ওই অ্যাপ ক্যাব চালকের নাম প্রদীপ ওড়ে। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০০ কোটি টাকা লেনদেনের বিষয়টা নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেন ইডি অফিসাররা। গভীর তদন্ত শুরু হয়। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ওই ক্যাবচালকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ক্রিকেট বেটিং ও শেয়ারবাজারের সঙ্গে যুক্ত টাকা অন্য জায়গায় পাচার করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের পর আহমেদাবাদের ক্রাইম ব্রাঞ্চের সঙ্গে ইডি একটি মামলা দায়ের করে বলে জানা গিয়েছে। ওড়েকে আটক করে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন ওড়ে স্বীকার করে নিয়েছেন, তিনি ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে কিরণ পারমার নামে একজনকে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, প্রতি চেকে সই করার জন্য ৪০০ টাকা করে পেতেন ওড়ে। এমনটাই জানিয়েছেন ইডি আধিকারিকরা।
ইডি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ওড়ের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ২০২৪ সালে প্রদীপ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ফার্ম তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া, কাগজে-কলমে কমলেশ ট্রেডিং এবং রৌনক ট্রেডার্স নামে আরও দু’টি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তবে, কোনও ব্যবসায়িক কাজকর্ম হত না। অথচ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৫৫০ কোটি টাকার জমা পড়েছে। ইডি জানিয়েছে, তার মধ্যে তিনভাগে তিনটি কোম্পানিতে টাকা লেনদেন হয়েছে। তিনটি পৃথক কোম্পানির অ্যাকাউন্টে যথাক্রমে ৮০ কোটি ৫০ লাখ, ৫২কোটি ১১ লাখ ও ২২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।
তদন্তকারীদের দাবি, কোম্পানির রেজিস্ট্রেশনে শেখ মঈন মোহাম্মদ শফির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল। এই শফি একাধিক পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বেআইনি কাজকর্ম চালাত বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছেন, তা এখনও জানা যায়নি। চক্রের মূল পাণ্ডার খোঁজে তদন্ত চালাচ্ছেন ইডি আধিকারিকরা।
