
ঢাকা: একটা ইস্যুতে দশক পুরনো সম্পর্ককে আটকে রেখে দিতে চায় না ঢাকা। বাংলাদেশে নতুন সরকার তৈরির প্রাক্কালেই ভারত প্রসঙ্গে নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করল বিএনপি। সেদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে সাময়িক আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি বৃহত্তর পরিসরে নয়াদিল্লি-ঢাকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেই জানালেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারেই নতুন সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত দলের অন্যতম মুখ ফখরুল। হাসিনা আমলে খালেদা জিয়া যখন জেলে, তারেক রহমানে ‘গা-বাঁচাতে’ সেই সময়কালে বিএনপির দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। দলের স্থায়ী কমিটির অন্যতম মুখ হিসাবে একা হাতে প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এমনকি, খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সময়ে যখন সংগঠনকে বিদেশ থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। সেই সময় দেশের তৃণমূলের স্তর পর্যন্ত দায়িত্ব সামলেছেন ফখরুল। মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথগ্রহণ করবেন তারেক রহমান। তার আগে ফখরুলের এই মন্তব্য অত্য়ন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন একাংশ।
এদিন গুলশানের কার্যালয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল আলমগীর আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বার্থে যে সকল প্রকল্প রয়েছে, সেগুলি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে এবং ভারতের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হবে।” পাশাপাশি হাসিনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস করি, শেখ হাসিনা সত্যি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাঁকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি জনমানুষের দাবি। আর আমরা মনে করি, ভারত তাঁকে আমাদের হাতে তুলে দেবে। কিন্তু তা না হলে যে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলা ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হবে, এমনটা নয়। আমরা আরও ভালো সম্পর্ক গড়তে চাই।”