High Court: ‘সন্তান যেন মা-কে চিরতরে না হারায়’, শিশুকে গর্তে পুঁতে মেরে ফেলার পরও শাস্তি লঘু করল হাইকোর্ট
Child Marriage: ২০২৪-এর এপ্রিলে খুনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ট্রায়াল কোর্ট মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয়। অভিযুক্ত স্বীকার করে নিয়েছিলেন যে মৃত শিশুর পরিবারের লোকজন সন্তানদের জন্য যা জিনিসপত্র কিনত, তা দেখে তাঁর নিজের সন্তানরাও বায়না করত। সেই রাগ আর হতাশাতেই ওই শিশুকে খুন করে ফেলেন তিনি।

পঞ্জাব: নৃশংস অপরাধেই শাস্তি লঘু করল আদালত। প্রতিবেশীর সন্তানকে মেরে মাটিতে পুঁতে দেওয়ার মতো ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ খারিজ করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট।
ঠিক কী ঘটেছিল
২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর নাতনিকে নিয়ে রাস্তায় খেলছিলেন ঠাকুমা। শিশু যখন বাইরে, তখন ৫ মিনিটের জন্য ঘরের ভিতরে যান তিনি। ফিরে এসে তিনি শিশুকে আর খুঁজে পাননি।
পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর শিশুর পরিবার জানতে পারে যে তাদের প্রতিবেশী এক মহিলা শিশুকে অপহরণ করেছে। অভিযোগ, ব্যক্তিগত আক্রোশেই তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয় ওই শিশুকে। তদন্ত চলাকালীন এক ব্যক্তি পুলিশকে জানান যে অভিযুক্ত ওই শিশুকে একটি গর্তে পুঁতে ফেলেছে। এরপর অভিযুক্ত মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলে তিনি জানান, ওই শিশুর পরিবার সন্তানদের জন্য সুন্দর সুন্দর জিনিস কিনে দিতেন। তা দেখে তাঁর নিজের সন্তানরাও আব্দার করতে শুরু করে। কিন্তু সেই আব্দার মেটানো তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। ঘটনার দিন সে শিশুকে তার স্কুটারে করে একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যান ও গর্তে পুঁতে ফেলেন।
কী বললেন বিচারপতি
বিচারপতি বিনোদ এস ভরদ্বাজ ও বিচারপতি রবীন্দ্র মালিক বলেন, যদিও অপরাধটি নৃশংস ছিল, তবে এটি এমন কোনও মামলা নয়, যেখানে মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র উপযুক্ত শাস্তি। অভিযুক্ত মহিলার তরফে সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ ডি এস সুখিজা যুক্তি দেন যে, ক্ষোভের বশে এই অপরাধ করেছিলেন অভিযুক্ত। তিনি আরও যুক্তি দেন যে তাঁর মধ্যে এমন কোনও নিউরোটিক বা সাইকোটিক ডিসঅর্ডার, মানসিক ব্যাধি, অস্বাভাবিক আচরণ না যাতে তিনি এই কাজ করেন। অভিযোগকারীর আইনজীবী অতুল গোয়াল যুক্তি দেন যে এই অপরাধকে ক্ষমা বা উপেক্ষা করা যায় না। তিনি আদালতে জানান যে শিশুকে একটি বালির গর্তে জীবন্ত পুঁতে ফেলেছিলেন, যা তার মানসিক বিকৃতি স্পষ্ট করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এক মা তাঁর মেয়েকে হারিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সেখানে অভিযুক্তের সন্তানরা যেন তাঁদের মাকে চিরতরে না হারায়।
২০২৪-এর এপ্রিলে খুনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ট্রায়াল কোর্ট মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয়। অভিযুক্ত স্বীকার করে নিয়েছিলেন যে মৃত শিশুর পরিবারের লোকজন সন্তানদের জন্য যা জিনিসপত্র কিনত, তা দেখে তাঁর নিজের সন্তানরাও বায়না করত। সেই রাগ আর হতাশাতেই ওই শিশুকে খুন করে ফেলেন তিনি।
