e High Court: সরকারি স্কুলের চাকরি ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে থাকতে চাপ! স্ত্রী'র আবেদনে বড় পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের - Bengali News | High court says husband cant give pressure to wife for staying with him | TV9 Bangla News

High Court: সরকারি স্কুলের চাকরি ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে থাকতে চাপ! স্ত্রী’র আবেদনে বড় পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

ডিভিশন বেঞ্চের স্পষ্ট বক্তব্য, বৈবাহিক অধিকার পুনরুদ্ধারের অর্থ স্ত্রী'কে স্বামীর শর্তে জীবনযাপন করতে বাধ্য করা নয়। বিয়েতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটা ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত আরও বলেছে যে স্বামী কোনও বৈধ কারণ ছাড়াই স্ত্রী আলাদা থাকছেন তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

High Court: সরকারি স্কুলের চাকরি ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে থাকতে চাপ! স্ত্রীর আবেদনে বড় পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

Feb 01, 2026 | 10:04 AM

ঝাড়খণ্ড: স্ত্রী না চাইলে, স্বামীর সঙ্গে থাকতে তাঁকে বাধ্য করা যায় না। চাকরি ছেড়ে দিতে চাপ দেওয়া যায় না। একটি মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের।

২০২৪ সালের ১০ মে ধানবাদের ফ্যামিলি কোর্টের তরফে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তা ভুল বলে উল্লেখ করে তা বাতিল করে দিল হাইকোর্ট। স্ত্রীর আবেদন মঞ্জুর করল আদালত। দীর্ঘদিন ধরেই স্ত্রী তাঁর স্বামীর থেকে আলাদাভাবে বসবাস করছিলেন। পারিবারিক আদালতের তরফে তাঁকে স্বামীর সঙ্গে থাকার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশকে অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদনে স্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে পণের দাবিতে তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে বিয়ের সময় তাঁকে তাঁর স্বামীর চাকরি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছিল।

২০১৮ সাল থেকে তাঁরা আলাদাভাবে বসবাস করছেন। তাঁর স্বামী এবং অন্যদের বিরুদ্ধে পণের দাবি ও নির্যাতন সহ একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত তার রায়ে বলেছে যে পারিবারিক আদালত পুরো প্রমাণ মূল্যায়ন করেনি। হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে যে যদি একজন স্ত্রী তাঁর স্বামীর সঙ্গে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে না পারেন, তাহলে তাঁকে তা করতে বাধ্য করা যায় না। আদালত আরও বলেছে যে বৈবাহিক অধিকারের মানে এক পক্ষকে সব নিষ্ঠুরতা সহ্য করতে বাধ্য করা নয়।

ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের বিচারপতি এসএন প্রসাদ এবং বিচারপতি এ কে রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ বৈবাহিক অধিকার পুনরুদ্ধারের আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট বলেছে যে একজন স্ত্রীকে চাকরি ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতে বাধ্য করা যাবে না।

আবেদনকারী জিতেন্দ্র আজাদ হিন্দু বিবাহ আইনের ৯ ধারায় তাঁর স্ত্রী মীনা গুপ্তের বিরুদ্ধে বৈবাহিক অধিকার পুনরুদ্ধারের একটি আবেদন করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে তার স্ত্রী কোনও বৈধ কারণ ছাড়াই আলাদা থাকছেন। স্ত্রী আদালতে জানিয়েছেন যে তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেরা একটি স্করপিও গাড়ি কেনার জন্য ১০ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করেছিলেন এবং তাঁকে তাঁর সরকারি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে, তিনি পাকুরে থাকেন এবং একটি সরকারি সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কাজ করেন। হাইকোর্ট বলেছেন যে আধুনিক সমাজে একজন মহিলার আর্থিকভাবে স্বাধীন হওয়ার অধিকার রয়েছে। তাঁর চাকরি চালিয়ে যাওয়াকে অনুচিত আচরণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

ডিভিশন বেঞ্চের স্পষ্ট বক্তব্য, বৈবাহিক অধিকার পুনরুদ্ধারের অর্থ স্ত্রী’কে স্বামীর শর্তে জীবনযাপন করতে বাধ্য করা নয়। বিয়েতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটা ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত আরও বলেছে যে স্বামী কোনও বৈধ কারণ ছাড়াই স্ত্রী আলাদা থাকছেন তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।