
নয়াদিল্লি: স্বামীর আয়ের ২৫ শতাংশ খোরপোশ হিসাবে দিতে হবে স্ত্রীকে। মঙ্গলবার একটি বিবাহবিচ্ছেদের মামলার শুনানির সময় জানিয়ে দিল উচ্চ আদালত। স্বামীর আবেদন খারিজ করে, স্ত্রীয়ের ভরণপোষণের টাকা বা খোরপোশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখলেন বিচারপতির বেঞ্চ। এই প্রসঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ, স্ত্রী বা কোনও মহিলা যদি আর্থিকভাবে নিজের দায়িত্ব নিতে অক্ষম হন, সেক্ষেত্রে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া স্বামীর পবিত্রতা ও কর্তব্যের মধ্য়ে পড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের শেষ দিকে। ওই বছর ডিসেম্বর মাসে সুরেশ চন্দ্র নামে এক জনৈক এলাহাবাদ হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। মূলত, শাহজানপুরের পারিবারিক আদালত সুরেশকে, তাঁর স্ত্রীয়ের হাতে প্রতি মাসে খোরপোশ বাবদ ৩ হাজার টাকা তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। যা আগে ছিল ৫০০ টাকা। সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টে দ্বারস্থ হন সুরেশ।
হাইকোর্টে সুরেশের পক্ষের আইনজীবী যুক্তি দেন, সে পেশায় একজন দিনমজুর। নিজের সংসার খুব কষ্টে চালান। এমতাবস্থায় খোরপোশের পরিমাণ এতটা বাড়িয়ে দেওয়া হলে, তা সুরেশের পক্ষে দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
কিন্তু মঙ্গলবার শুনানি পর্বে এই সকল যুক্তি একেবারেই খারিজ করে দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট। প্রাক্তন স্ত্রী, যাঁর নিজস্ব কোনও আয় নেই, তাঁকে খোরপোশ প্রদান করা সুরেশের আইনত দায়িত্ব বলেই উল্লেখ করে বিচারপতি বেঞ্চ। পাশাপাশি, সুরেশের মোট আয়ের ২৫ শতাংশ প্রতিমাসে প্রাক্তন স্ত্রীকে প্রদান করতে হবে বলেই জানায় আদালত। জানা গিয়েছে, দিনমজুর হিসাবে সুরেশের প্রতিদিনের আয় ৬০০ টাকা। মাসে গড়ে ১৮ হাজার টাকা। এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ, প্রতি মাসে স্ত্রীকে মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হবে সুরেশকে।