Hind Di Chadar: সেবাই ধর্ম, ‘হিন্দ-দি-চাদরে’র বিশাল লঙ্গরে লক্ষ লক্ষ মানুষ খেলেন একসঙ্গে
Langar Seva: ‘সকল মানুষ সমান’—এই আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত এই সেবা ‘হিন্দ-দি-চাদর’ অনুষ্ঠানে আরও বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেখানে লক্ষ লক্ষ ভক্ত, সাধু-সন্ত, সাধারণ নাগরিক, স্বেচ্ছাসেবক ও অতিথিদের খাবার খাওয়ানো হচ্ছে।

নান্দেদ: শিখ ধর্মের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে সেবাধর্ম। সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করে লঙ্গর সেবা, যার সঙ্গে সকলেই পরিচিত। ‘হিন্দ-দি-চাদর’ শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর সাহিবজির ৩৫০তম শহিদি সমাগম বর্ষ উপলক্ষে নান্দেদে আয়োজন করা হয়েছিল এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের। সেখানে লঙ্গর সেবার মাধ্যমে সেবা, সাম্য ও মানবতার এক অনন্য উদাহরণ তুলে ধরা হয়। ধর্ম, জাতি, ভাষা কিংবা প্রদেশের কোনও ভেদাভেদ না রেখে হাজার হাজার ভক্তকে একসঙ্গে বসিয়ে আহার করানো হয় এই লঙ্গর প্রথায়।
‘হিন্দ-দি-চাদর’ অনুষ্ঠানে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দেশের নানা রাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্ত সমবেত হয়েছেন। তাঁদের জন্য মূল মণ্ডপের কাছে স্থাপিত ৮টি পৃথক মণ্ডপে লঙ্গর সেবা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, লঙ্গর সেবা কেবল খাদ্য বিতরণের ব্যবস্থা নয়, বরং মানবতা ও নিঃস্বার্থ সেবার বার্তা বহনকারী এক গৌরবময় পরম্পরা।
‘সকল মানুষ সমান’—এই আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত এই সেবা ‘হিন্দ-দি-চাদর’ অনুষ্ঠানে আরও বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেখানে লক্ষ লক্ষ ভক্ত, সাধু-সন্ত, সাধারণ নাগরিক, স্বেচ্ছাসেবক ও অতিথিদের খাবার খাওয়ানো হচ্ছে।
এই লঙ্গর সেবায় শিখ সমাজের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, যুবক-যুবতী, মহিলা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছেন। সবজি কাটা, রুটি তৈরি, রান্না করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সেবা করা- সব কাজই ‘সেবাই সাধনা’ এই ভাবনাকে সামনে রেখে সম্পন্ন করা হচ্ছে। বহু স্বেচ্ছাসেবক ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিরলসভাবে সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।
এই লঙ্গরে ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-শিশুর কোনও বিভেদ রাখা হয়নি। সবাই একসঙ্গে মাটিতে বসে খাবার গ্রহণ করছেন। সামাজিক সাম্যের ছবি তুলে ধরেছেন ভক্তরা।
এই লঙ্গর ও ‘হিন্দ-দি-চাদর’ অনুষ্ঠানকে সফল করতে জেলা প্রশাসন, পুরসভা ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি সহায়তা করেছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
