
নয়াদিল্লি: ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর তৈরি হয়ে গিয়েছিল ভারতের সংবিধান। কিন্তু তা কার্যকর করতে এতটা সময় কেন লেগেছিল? কেনই বা দু’মাস অপেক্ষা করতে হয়েছিল গণপরিষদকে? সোমবার ৭৭ তম প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করছে ভারতবর্ষ। দিল্লির কর্তব্যপথ থেকে বাংলার রেড রোড। আয়োজন হয়েছে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। আর সেই দিনেই আবার ফিরে এল এই দু’মাসের বিরতির প্রশ্ন।
এই দু’মাসের বিরতির সঙ্গে যোগ রয়েছে ভারতের পূর্ণ স্বরাজের। ব্রিটিশ শাসনকালে নিজস্ব সংবিধান তৈরির দাবি মাথা চাড়া দিয়েছিল সেই ১৯ শতকের শেষের দিকে। যা বাস্তবিক রূপ পেয়েছিল স্বাধীনতা ঘোষণার পর। তবে এর আগেও একটি ঘটনা ঘটেছিল। ১৯২৯ সালে লাহোর অধিবেশনে জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ‘পূর্ণ স্বরাজ’-এর দাবি তুলেছিলেন। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি দিনটিকে ‘প্রথম স্বাধীনতা দিবস’ হিসাবে পালন করা হয়েছিল।
এরপর ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট ভারতে অবশেষে পূর্ণ স্বাধীনতা ঘোষণা হলে ফিকে হয়ে যায় এই ২৬ জানুয়ারি দিনটি। তখন ২৬ জানুয়ারিকে বাঁচিয়ে রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নেয় গণপরিষদ। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা প্রয়োজন, ভারতের সংবিধান তৈরির জন্য ১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বর গঠিত হয় গণপরিষদ। এই পরিষদের প্রথম অস্থায়ী সভাপতি ছিলেন সচ্চিদানন্দ সিনহা। পরবর্তীতে রাজেন্দ্র প্রসাদকে স্থায়ী সভাপতি করা হয়।
এই গণপরিষদের হাত ধরে রূপ পেয়েছিল ভারতের সংবিধান। বিআর অম্বেদকর নেতৃত্বাধীন সাত সদস্য়ের খসড়া কমিটি তৈরি করেছিল ভারতের সংবিধানকে। দু’বছরের অধিক সময় নিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর সেই সংবিধান তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তা কার্যকর দু’মাস পর। ঐতিহাসিকরা বলেন, এই সময় ভারতের স্বরাজ অর্জনের দিনকে চিরকাল টিকিয়ে রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পূর্ণ স্বরাজের দিন অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারি ধার্য হয় সংবিধান কার্যকরের জন্য। যেহেতু একটি দেশের দু’টি স্বাধীনতা দিবস হতে পারে না, তাই সেই কথাকে মাথায় রেখেই ২৬ জানুয়ারি হয়ে যায় প্রজাতন্ত্র দিবস। যে দিন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ভারতের গণতন্ত্র।