
নয়াদিল্লি: সার্ধশতবর্ষ পূর্তি হয়েছে বন্দে মাতরম্ গানের। যা নিয়ে রাজনীতিও কম হয়নি। সংসদের দুই কক্ষে এই গানের স্তবক বাদ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টার চলেছে আলোচনা। কারওর কাছে সেই আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারওর কাছে আবার অপ্রাসঙ্গিক। নতুন করে অতীতের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণ নেই বলে মত একাংশের।
তবে ‘বন্দে মাতরম্’ নিয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিতে উদ্যত্ত কেন্দ্রীয় সরকার। জাতীয় সঙ্গীত, ভারতভাগ্যবিধাতার মতো বন্দে মাতরমে্র ক্ষেত্রে বাড়তি কিছু নীতি চালু করতে চায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় সঙ্গীত বাজলে যেমন দাঁড়িয়ে থাকার নিয়ম রয়েছে। ঠিক একইভাবে বন্দে মাতরমে্র ক্ষেত্রে এমনই কিছু নীতি চালু করার কথা ভাবছে কেন্দ্র। এই মর্মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অন্দরে বিস্তর আলোচনা চলছে। তবে গোটাটাই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এই নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।
জাতীয় সঙ্গীত কানে এলে দাঁড়িয়ে পড়ার প্রবণতা আসলেই আইনি বেড়াজালের অন্তর্গত। ১৯৭১ সালের জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইনের ভিত্তিতে নাগরিক মনে এই সচেতনতা তৈরি করা হয়েছে। সেই কারণে জাতীয় সঙ্গীত বাজলেই অধিকাংশ ভারতীয় দাঁড়িয়ে পড়েন। দেশ ও দেশের জাতীয় সঙ্গীতকে সম্মান জানাতেই এই আচরণের কথা আইনে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু বন্দে মাতরম নিয়ে এমন কোনও বিধান নেই।
এর আগেও জাতীয় সঙ্গীতের মতো বন্দে মাতরম্ বা জাতীয় স্তোত্রের ক্ষেত্রে এই সকল নীতি চালু করার আর্জি জানিয়ে অনেকেই হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু তৎকালীন সময়ে থাকা সরকারের অবস্থান এই নিয়ে স্পষ্ট ছিল। এই নীতি শুধুমাত্র জাতীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলেই মত ছিল কেন্দ্রের। এবার সেই ধারণাই বদলে ফেলতে চায় কেন্দ্র। ভাবছে নতুন আইনের কথা।