
নয়াদিল্লি: দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার। প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন কর্তব্যপথে হাঁটবে সেনার সারমেয়রা। গত কয়েক বছরে ভারতীয় সেনার ‘অন্যতম সঙ্গী’ হয়ে উঠেছে চার পেয়েরা। যার নজির এই সিদ্ধান্ত। সারমেয়দের বাহিনীতে জোর দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। আগের তুলনায় সেনায় বেড়েছে দেশি কুকুরের সংখ্য়া। বেড়েছে অন্যান্য চার পেয়েদের সংখ্যা। এবার সেই সূত্র ধরেই কর্তব্য়পথে হাঁটবে ওই সারমেয়রা। তাও আবার প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, দু’টি ব্যাকট্রিয়ান উট, চারটি জাংস্কার প্রজাতির ঘোড়া, চারটি শিকারি পাখি, দশটি দেশি সেনা-কুকুর। এছাড়াও থাকবে আরও ছয়টি বিদেশি প্রজাতির সেনা-কুকুর। সব মিলিয়ে সেনার সারমেয়দের ফুল প্যাকেজ। যাতে নেই কোনও ভিন দেশের প্রতি নির্ভরতা।
জানা গিয়েছে, কর্তব্যপথের মার্চে প্রথমেই থাকবে ওই ব্যাকট্রিয়ান উট দু’টি। এই উট কিন্তু রাজস্থানের নয়, বরং লাদাখে। ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় সেনার অন্যতম আস্থাভাজন এই উটগুলি। যা বহন করে সেনার সামগ্রী। সেনা সূত্রে খবর, এই এক একটি উট বহন করতে পারে ২৫০ কিলো ওজনের সেনা সরঞ্জাম।
এই উটগুলির পিছনে হাঁটবে লাদাখের বিশেষ ঘোড়া। যার পোশাকি নাম জাংস্কার ঘোড়া। উটগুলির মতো এই সারমেয়রাও সক্ষম ভারী থেকে অতিভারী সেনা সরঞ্জাম বহনে। লাদাখের মতো কম অক্সিজেন সম্পন্ন বায়ুতে নির্দ্বিধায় সেনার সামগ্রী বহন করতে পারে এই ঘোড়াগুলি। এবার তাঁরা কসরত দেখাবে কর্তব্যপথে।
প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে থাকবে সেনার শিকারি পাখিও। বর্তমানে পাহাড়ি এলাকায় নজরদারির কাজে এই শিকারি পাখিগুলির ব্যবহার করে থাকে ভারতীয় সেনা। যাঁদের দেখা মিলবে কর্তব্য পথেও।
সবশেষে পড়ে রইল দেশি কুকুর। তাঁদের নিয়ে শব্দ খরচের প্রয়োজনীতাও কার্যত কম। কারণ, গত কয়েক বছরে সেনাবাহিনীতে নজির গড়েছে প্রশিক্ষণরত দেশি কুকুরগুলি। যে কারণে বিদেশি জাতের কুকুর ছেড়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বাড়তি নজর দিয়েছে এই দেশি কুকুরেই।