India’s IIP Rises: গতি পেল দেশের শিল্পোৎপাদন, এক লাফে বাড়ল ২ শতাংশের বেশি
India IIP growth June 2026: সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে IIP-এর দ্রুত অনুমান দাঁড়িয়েছে ১২৩.১, যা ২০২৫ সালের জুনে ছিল ১১৪.৭। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে শিল্পোৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।

নয়াদিল্লি: দেশের শিল্পোৎপাদন ফের গতি পেল। ২০২৬ সালের জুন মাসে ভারতের ইন্ডেক্স অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন (IIP) বছরের ভিত্তিতে ৭.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মে মাসে যেখানে শিল্পোৎপাদনের বৃদ্ধির হার ছিল ৫.১ শতাংশ, সেখানে জুনে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মূলত উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং) খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির জেরেই এই সাফল্য এসেছে। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক গতি বজায় থাকার ইঙ্গিত মিলছে।
বৃহস্পতিবার পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক (MoSPI) প্রকাশিত ইন্ডেক্স অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন (IIP)-এর দ্রুত অনুমান (Quick Estimates) অনুযায়ী, জুন মাসে শিল্পোৎপাদনের বৃদ্ধি প্রায় সব ক্ষেত্রেই বিস্তৃত ছিল। উৎপাদন শিল্পের মোট ২৩টি গোষ্ঠীর মধ্যে ১৯টি গোষ্ঠীই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি নথিভুক্ত করেছে।
উৎপাদন শিল্পই বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে IIP-এর দ্রুত অনুমান দাঁড়িয়েছে ১২৩.১, যা ২০২৫ সালের জুনে ছিল ১১৪.৭। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে শিল্পোৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। IIP-তে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন খাত জুন মাসে ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সামগ্রিক শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে এই খাত।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ খাত বছরে ভিত্তিতে ১০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার ফলেই এই প্রবৃদ্ধি এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া, জল সরবরাহ, নিকাশি ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাত ৬.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। খনি ও খনিজ উত্তোলন (Mining and Quarrying) খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছে, যদিও বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম—মাত্র ১ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদন বাড়ার ফলে ম্যানুফ্যাকচারিং খাত এখনও দেশের শিল্পোৎপাদনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রয়েছে।
কোন কোন শিল্পে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি?
উৎপাদন শিল্পের ২৩টি গোষ্ঠীর মধ্যে ১৯টিতেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি হয়েছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম (Electrical Equipment) উৎপাদন শিল্পে। এই খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৩৪ শতাংশ, যা উৎপাদন শিল্পের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এরপরেই রয়েছে মোটরগাড়ি, ট্রেলার ও সেমি-ট্রেলার উৎপাদন শিল্প, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার ১৭.৫ শতাংশ। যানবাহনের চাহিদা বৃদ্ধি এবং উৎপাদন সম্প্রসারণের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।
এছাড়া, খাদ্যপণ্য উৎপাদন শিল্পেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এই খাত জুন মাসে ১০.৮ শতাংশ বৃদ্ধি নথিভুক্ত করেছে। ভোক্তাদের চাহিদা বৃদ্ধি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কার্যকলাপ বাড়ার ফলেই এই উন্নতি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, জুন মাসের শিল্পোৎপাদনের পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভোক্তাভিত্তিক এবং শিল্পভিত্তিক—উভয় ক্ষেত্রেই উৎপাদন কার্যক্রমে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক।
