AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Indian Mobile Phones: বিদেশি ব্রান্ড নয়, ২ বছরের মধ্যে হাতে আসবে ভারতীয় ব্রান্ডের মোবাইল! বড় ঘোষণা মন্ত্রীর

Ashwini Vaishnaw on Mobile Phones: তাঁর মতে, গত সাড়ে তিন বছরে ভারত যে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করেছে, তা দেশের নিজস্ব মোবাইল ব্র্যান্ড তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এবার সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় ব্র্যান্ড, ভারতীয় ডিজাইন এবং মেধাস্বত্ব বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি (IP)-র মালিকানা দেশের মধ্যেই ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র।

Indian Mobile Phones: বিদেশি ব্রান্ড নয়, ২ বছরের মধ্যে হাতে আসবে ভারতীয় ব্রান্ডের মোবাইল! বড় ঘোষণা মন্ত্রীর
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।Image Credit: PTI
| Updated on: Oct 24, 2026 | 8:58 AM
Share

নয়া দিল্লি: আর কোনও বিদেশি কোম্পানি নয়, এবার ভারতীয়দের হাতে থাকবে দেশে তৈরি ফোনই! আগামী দুই বছরের মধ্যেই এই স্বপ্ন সত্যি হবে। প্রতিশ্রুতি দিলেন কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)।

শুক্রবার এনডিটিভি-র একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বড় পরিকল্পনার কথা ভাগ করে নিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আজ ২৩ অক্টোবর, ২০২৬। প্লিজ নোট করে রাখুন, ২৩ অক্টোবর, ২০২৮-র মধ্যে আপনার কাছে ভারতীয় ডিজাইনে, ভারতে উৎপাদিত, ভারতীয় ব্রান্ডের মোবাইল থাকবে।”

হাতে মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বোঝান যে একটি মোবাইল ফোন তৈরি করা যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তা ততটাই জটিল। একটি ছোট্ট মোবাইলের মধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ এবং প্রযুক্তি একসঙ্গে কাজ করে। তাই মোবাইলের ডিজাইন তৈরি করা যথেষ্ট কঠিন। তবে গত কয়েক বছরে এই ক্ষেত্রেও ভারত উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, প্রায় তিন বছর আগে ভারতীয় ডিজাইনারদের সামনে মোবাইল ফোনের মাদারবোর্ড বা পিসিবি (PCB) তৈরির চ্যালেঞ্জ রেখেছিল কেন্দ্র। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, “তোমরা কেন মাদারবোর্ড তৈরি করতে পারো না?”।  সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে দুটি সংস্থা মাদারবোর্ডের ডিজাইন তৈরি করে। এর মধ্যে একটি সংস্থার ডিজাইন বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বর্তমানে সেই ডিজাইন আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার জন্য নির্বাচিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আমেরিকায় ভারতীয় ডিজাইনে তৈরি ৫জি (5G) ফোন-

অশ্বিনী বৈষ্ণবের দাবি, ভারতীয় সংস্থার তৈরি ডিজাইন ব্যবহার করে 5G-র উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন মোবাইল ফোন তৈরি করা হয়েছে। সেই ফোন ইতিমধ্যেই আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার কাছে সরবরাহ করা হয়েছে এবং গ্রাহকদের হাতেও পৌঁছে গিয়েছে। তিনি জানান, আমেরিকায় মোবাইল ফোন কেনার সময় অনেক ক্ষেত্রে টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার সঙ্গে ১২ মাসের চুক্তিও করা হয়। সেই ব্যবস্থার আওতায় এই ফোনের চুক্তিও ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।

তাঁর মতে, গত সাড়ে তিন বছরে ভারত যে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করেছে, তা দেশের নিজস্ব মোবাইল ব্র্যান্ড তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এবার সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় ব্র্যান্ড, ভারতীয় ডিজাইন এবং মেধাস্বত্ব বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি (IP)-র মালিকানা দেশের মধ্যেই ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তৈরি মোবাইল ফোন ভবিষ্যতে বিপুল সংখ্যায় বিক্রি হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

মোবাইল ডিজাইন করা এত কঠিন কেন?

অশ্বিনী বৈষ্ণব ব্যাখ্যা করেন যে একটি ছোট্ট মোবাইলের মধ্যে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি যোগাযোগের ব্যবস্থা, অ্যান্টেনা, কম্পিউটিং ইউনিট, মেমোরি, ক্যামেরা মডিউল, ডিসপ্লে, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ এবং পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা রাখতে হয়। এই সমস্ত যন্ত্রাংশকে খুব কম জায়গার মধ্যে সাজাতে হয়। একই সঙ্গে মোবাইলের ওজন, বিদ্যুতের ব্যবহার এবং প্রতিটি যন্ত্রাংশের কার্যকারিতার দিকেও নজর রাখতে হয়। ফলে এত ছোট আকারের একটি ডিভাইসে সব কিছু সঠিকভাবে যুক্ত করে কার্যকর মোবাইল তৈরি করা অত্যন্ত জটিল কাজ।

কংগ্রেস সরকারের নীতির সমালোচনা-

এদিন দেশের উৎপাদন ক্ষেত্রের অতীত পরিস্থিতি নিয়েও কংগ্রেসকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারগুলির তৈরি বিভিন্ন নিয়ম, বিধি এবং আইনের কারণে দেশের উৎপাদন ক্ষেত্র বাধার মুখে পড়েছিল। তিনি বলেন, “১৯৯০ সাল থেকে উদার অর্থনীতির প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০০৪ সাল পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া ভালোভাবে এগিয়েছিল। কিন্তু ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ফের নিয়ন্ত্রণমূলক মানসিকতা ফিরে আসায় উৎপাদন ক্ষেত্রের অগ্রগতি বাধাপ্রাপ্ত হয়”।

মন্ত্রী আরও বলেন, “২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তাঁর মতে, ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলেই বোঝা যাবে, বর্তমানে দেশ কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।

Follow Us