
অহমেদাবাদ: গুজরাটের আহমেদাবাদের মেঘানিনগরে ভেঙে পড়ল একটি যাত্রীবাহী বিমান। সংবাদসংস্থা ANI সূত্রে খবর, মৃত্যু হয়েছে ২৪২ জন যাত্রীর এমনই আশঙ্কা। আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল বিমানবন্দর থেকে উড়ানের পর কিছুটা যেতেই ভেঙে পড়ে বিমানটি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এটি এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-এর এআই ১৭১ বিমান। যা উড়েছিল লন্ডনের দিকে।
আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় উদ্ধার হল একটি ব্ল্যাক বক্স। সাধারণত একটি বিমানে দু’টি ব্ল্যাক-বক্স থাকে। পুলিশি সূত্রে খবর, সেই দু’টির মধ্যে একটি ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানে মৃত যাত্রীদের পরিচয় জানতে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ পরীক্ষা হবে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য মৃতদের পরিবারের সদস্যরা আহমেদাবাদের সিভিল হাসপাতালে আসছেন। সিভিল হাসপাতালের ‘কসৌতি ভবন’ পরীক্ষা কক্ষে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা চলছে। ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা আগামী ৭ দিন চলতে পারে। এদিকে, একের পর এক মৃতদেহ কফিনবন্দি করে বের করা হচ্ছে মর্গ থেকে। কান্নায় ভেঙে পড়ছেন পরিজনরা। যে দেহগুলি শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে, সেই দেহগুলি হস্তান্তর করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের একমাত্র জীবিত যাত্রী বিশ্বাস কুমার রমেশের সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিলেন।
বিজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪১ জন। এর মধ্যে ৩২ জনই আহত এমবিবিএস পড়ুয়া। ৪১ জনের মধ্যে পাঁচজন আইসিইউ, একজন এইচডিইউয়ে চিকিৎসাধীন। বেশ কয়েকজন এমবিবিএস পড়ুয়ার এখনও খোঁজ নেই। নিখোঁজের তালিকায় নিউরো সার্জারির এক রেসিডেন্ট চিকিৎসকের স্ত্রী। জখমদের চিকিৎসার মধ্যেই রাতভর মর্গে চলছে মৃতদেহ গোনার কাজ
এখনও পর্যন্ত ২৬৫ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্য়ে বিমানের ২৪১ জন যাত্রী রয়েছেন। পাশাপাশি ২৪ জন স্থানীয় বাসিন্দার দেহ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জন মেডিক্যাল পড়ুয়াও রয়েছেন।
আহমেদাবাদে পা রেখেই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উদ্ধারকাজ খতিয়ে দেখছেন তিনি।
আহমেদাবাদ পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।আজ তিনি ঘুরে দেখবেন দুর্ঘটনাস্থল। উদ্ধারকাজ কীভাবে চলছে তা খতিয়ে দেখবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সিভিল হাসপাতালে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। একমাত্র জীবিত যাত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। দেখা করবেন অন্যান্য আহতদের সঙ্গে। কথা বলবেন চিকিৎসকদের সঙ্গে। এরপর প্রশাসনিক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিমান দুর্ঘটনায় মৃতদের দেহ শনাক্ত করার জন্য একমাত্র ভরসা ডিএনএ পরীক্ষা। গতকাল রাত পর্যন্ত ১৪০ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ হয়েছে। রিপোর্ট পেতে অন্তত ৭২ ঘণ্টা সময় লাগবে বলেই জানা গিয়েছে। বিমানে যারা ছিলেন, তাদের ঘনিষ্ঠ পরিজনদের আসতে বলা হয়েছে ডিএনএ মিলিয়ে দেখার জন্য।
একদিকে অসামরিক উড়ান পরিবহন মন্ত্রকের এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)। অন্যদিকে, ইউকে এয়ার অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ। এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় শুরু হচ্ছে তদন্ত। আজ রাতেই দিল্লি থেকে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছবে AAIBর ডিরেক্টর জেনারেল এবং ডিরেক্টর অফ ইনভেস্টিগেশন। তিনি ঘটনাস্থলে যাবেন। ভারতের পাশাপাশি দুর্ঘটনার তদন্ত করবে UK Air Accidents Investigation Branch-ও।
দেড় লক্ষ লিটার জ্বালানি ছিল বিমানে, মাটিতে আছড়ে পড়তেই জ্বলে যান সকল যাত্রীরা। দুর্ঘটনার পর ১৬ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে, এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। সম্পূর্ণ পোড়া, ঝলসে যাওয়া দেহগুলি শনাক্ত করার কোনও উপায় নেই। শনাক্তকরণের জন্য ভরসা শুধু ডিএনএ পরীক্ষা।
আহমেদাবাদের দুর্ঘটনাস্থল, যেখানে গতকাল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি ভেঙে পড়েছিল, সেখানে যাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানির মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিআর পাতিল তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শোকের ছায়া পদ্ম শিবিরে। গুজরাতের পাশাপাশি শোকের ছায়া গোটা ভারতেই।
এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা ঘোষণা করা হয়নি। ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়ায় এলাকারও অনেক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা। অনেকেই চেনা পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। এমনতাবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বললেন, ডিএনএ পরীক্ষার পর সঠিকভাবে মৃতের সংখ্যা জানা যাবে।
শেষ পাওয়া আপডেটে জানা যাচ্ছে কমপক্ষে ৩১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দাবি আমেদাবাদের সিভিল হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের একাংশের। বিমানে ছিলেন গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি। উদ্ধারের পর হাসপাতালে যখন তাঁকে আনা হয় তখন তাঁর দেহে প্রাণ ছিল না।
এদিন ইউনূস বলেন, ‘আহমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনার খবর আমি গভীরভাবে শোকাহত। আমরা নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করি। তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা। পাশাপাশি, সেদেশের জনগণ ও সরকারের যে কোনও রকম প্রয়োজনীয়তায় আমরা তাদের পাশে রয়েছি।’
আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এদিন নিজের সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘এই ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। পাশাপাশি, কেন্দ্রের কাছে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাব।’
আহমেদাবাদের সিভিল হাসপাতালে ঠাসা ভিড়। বিপর্যয় মোকাবিলায় পৌঁছেছে পুলিশ, দমকল, ডাক্তাররা। এয়ার ইন্ডিয়ার ভেঙে পড়ার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় একটি চিকিৎসক পড়ুয়াদের হস্টেলেও। সূত্রের খবর, সেখানে গুরুতর ভাবে আহত হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন চিকিৎসক। এই পরিস্থিতি বিপর্যয় বিধ্বস্ত এলাকার দিকে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ইতিমধ্য়েই নয়াদিল্লি থেকে রওনা দিয়েছেন তিনি।
আহমেদাবাদে দুর্ঘটনাগ্রস্থ বিমানে ছিলেন কারা? দুপুর থেকে সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। সবিস্তারে তথ্য জানাবে বলে আশ্বস্ত করে টাটা গোষ্ঠী অধীনস্থ বিমান পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। তারা জানায়, ‘এআই ১৭১ বিমান, যা মোট ২৪২ জন যাত্রী ও পরিষেবা প্রদানকারী-সহ লন্ডনের পথে উড়ান দিয়েছিল।’ এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এই ২৪২ জনের মধ্যে ক্রিউ সদস্য বা বিমানে চালক-পরিষেবা প্রদানকারীর সংখ্যা ছিল ৮ জন। ১৬৯ জন ছিলেন ভারতীয়। ৫৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক। ৭ জন পোর্তুগালের নাগরিক ও ১ জন কানাডার নাগরিক।
এদিন নিজের এক্স হ্যান্ডেলে অসামরিক বিমান মন্ত্রী রামমোহন নায়ডু জানান, ‘আহমেদাবাদের দুর্ঘটনায় শোকাহত। আমরা গোটা ঘটনার উপর নজর রাখছি। এমনকি, ব্যক্তিগত ভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। বিপর্যয় মোকাবিলা দলও পৌঁছে গিয়েছে।’
এদিন নিজেদের এক্স হ্যান্ডেলে বিমান ভেঙে পড়া নিয়ে একটি পোস্ট করে এয়ার ইন্ডিয়া। তারা জানিয়েছে, ‘আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গাটউইকের দিকে যাওয়া বোয়িং এআই ১৭১ বিমানটি একটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। ইতিমধ্যেই আমরা গোটা ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ তা খোঁজার চেষ্টা শুরু করেছি। আগামীতে তথ্য পাওয়া মাত্রই সবটাই আমরা মানুষকে জানাব।’
আহমেদাবাদের মেঘানিনগরে জনবসতি পূর্ণ এলাকায় ভেঙে পড়া এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং এআই ১৭১ বিমানে ছিলেন গুজরাটের ১৬ তম প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি। তবে এখনও পর্যন্ত তার কী পরিস্থিতি সেই নিয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি