ED-র বিরুদ্ধে FIR-এ স্থগিতাদেশ, মমতার নিয়ে আসা জিনিসগুলো সংরক্ষণের নির্দেশ
এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বড় পর্যবেক্ষণ, কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার যেমন নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপ কাম্য নয়, তেমনই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সি যদি স্থানীয় থানার অনুমোদনপত্র হাতে নিয়ে বৈধ তদন্ত করে, তাহলেও তা আইনসিদ্ধ।

নয়া দিল্লি: I-PAC মামলায় সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি ইডির। ইডির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর-এ স্থগিতাদেশের নির্দেশ। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তল্লাশির মাঝে সেদিন প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে যে সমস্ত জিনিস, ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে গিয়েছিলেন, তা সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তা যাতে কোনওভাবে বিকৃত করা না হয়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে তদন্তকারীকে। পাশাপাশি এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বড় পর্যবেক্ষণ, কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার যেমন নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপ কাম্য নয়, তেমনই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সি যদি স্থানীয় থানার অনুমোদনপত্র হাতে নিয়ে বৈধ তদন্ত করে, তাহলেও তা আইনসিদ্ধ।
সব পক্ষকে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে জবাবি হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। নোটিসও ইস্যু করেছেন তিনি। উল্লেখ্যে, এই ২ সপ্তাহের সময়ের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নিয়ে যাওয়া যাবতীয় ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। যেখানে তল্লাশি চলেছে এবং তার সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, স্টোরেজ ডিভাইস সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
পাশাপাশি ইডি অফিসারদের উপর দায়ের হওয়া এফআইআর-এর উপর স্থগিতাদেশও দিয়েছেন বিচারপতি। উল্লেখ্য, ইডি-র বিরুদ্ধে শেক্সপিয়ার সরণী থানা এবং অন্য থানায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য পুলিশের তরফ থেকে এফআইআর করা হয়। অর্থাৎ তদন্তকারী ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে কোনও অবস্থাতেই পদক্ষেপ করা যাবে না। আর ঠিক এই সময়েই এদিন আদালতে রাজ্যের পুলিশ আধিকারিকদের তরফে আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ভি সওয়াল করেন, এই মামলায় উল্টোদিকে যাঁরা রয়েছেন, অর্থাৎ যাঁদের নাম উঠে আসছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও যেন কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা না হয়। আদালত যাতে তাঁদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তার আবেদন জানান তিনি। কিন্তু বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র স্পষ্ট করে বলে দেন, এই মামলা অত্যন্ত সংবেদনশীল। ইডি- বা কোনও তদন্তকারী সংস্থার হাতে যদি ‘অথরাইজেশন লেটার’ থাকে, তাহলে তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবেন। অর্থাৎ প্রতীক জৈন কিংবা এই তদন্ত যাঁদের বিরুদ্ধে হচ্ছে, তাঁদের কোনও নিরাপত্তার মোড়ক দেওয়া হয়নি।
অর্ডার দেওয়ার আগে বিচারপতি এও তুলে ধরেন, কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগেও কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাজে হস্তক্ষেপ করেছেন। কার্যত এটা একটা প্যাটার্নে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি। একই সঙ্গে কলকাতায় ইডি-সিবিআই অফিসারদের তদন্তের বিরুদ্ধে যেভাবে ধরনা হয়েছে, বিক্ষোভ হয়েছে, সেটাও অর্ডার দেওয়ার আগে বিচারপতি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, শেষ বেলার সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা বলেন, তাঁরা আদালতে সর্বশেষ একটি পিটিশন ফাইল করেছেন, যেখানে রাজীব কুমার-সহ পুলিশ আধিকারিকদের সাসপেনশন করার কথা বলা হয়েছে। সেই বিষয়টিও নোটিস ইস্যুর মধ্যে থাকছে বলে বিচারপতি জানিয়ে দেন। পরবর্তী শুনানি ৩ ফেব্রুয়ারি।
