
নয়াদিল্লি: ২০১৬ সাল, নভেম্বর মাস। সবে শীত পড়ছে। আচমকাই পাঁচশো ও হাজার টাকার নোট বাতিলের কথা ঘোষণা করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, জাল নোট ও কালো টাকা মুছে ফেলতে এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’। মানুষের সমস্যা হবে। কিন্তু দেশের স্বার্থে সেই সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলাও করতে হবে।
২০২৬ সাল, নভেম্বর নয়, ডিসেম্বর মাস। সংসদে শুরু হল শীতকালীন অধিবেশন। সেখানেই এই কালো টাকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কলকাতা দক্ষিণের তৃণমূল সাংসদ মালা রায়। গত ১০ বছরে মোদী সরকার বিদেশ থেকে কত কালো টাকা ফিরিয়ে এনেছে, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি, কত পরিমাণ কালো টাকা দেশের বাইরে চলে গিয়েছে, সেটাও জানতে চান সাংসদ। যার লিখিত আকারে জবাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী।
তৃণমূল সাংসদকে তিনি জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা কর ও জরিমানা সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অর্থ প্রতিমন্ত্রীর কথায়, ‘আয়করের ধারায় সরাসরি কালো টাকা বলে কিছু নেই। যেটা রয়েছে, তা হল বিদেশে থাকা অপ্রকাশিত সম্পত্তির খতিয়ান প্রকাশের আইন। সেই আইন অনুযায়ী, এই তিন মাসে মোট ৪ হাজার ১৬৪ কোটি টাকার অপ্রকাশিত বিদেশি সম্পত্তি উদ্ধার করেছে কেন্দ্র। যার মধ্যে থেকে ২ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকার কর ও জরিমানা সংগ্রহ করেছে কেন্দ্র।’
সাংসদের দাবি মেনে গত দশ বছরেরও খতিয়ান দিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী। লিখিত জবাবে তিনি জানিয়েছেন, ‘এখনও পর্যন্ত ১ হাজার ৮৭টি অপ্রকাশিত বিদেশি সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। যার ভিত্তিতে ৪০ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা কর ও জরিমানা দাবি করা হয়েছে। কিন্তু উদ্ধার হয়েছে ৩৩৯ কোটি টাকা।’ প্রথম প্রশ্নের উত্তর মিললেও, দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দেয়নি কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী।