Mamata Banerjee at Supreme Court: মমতার তোলা প্রশ্নই বিচারপতিদের গলায়, কোর্ট রুমে কীভাবে সম্ভব হল এটা?
SIR Case In Supreme Court: বেলা ১টার পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর এজলাসে। প্রথম থেকেই হাজির ছিলেন মমতা। কিন্তু প্রথম তিনি বসেছিলেন পিছনের সারিতে। শুনানি শুরুর কিছু সময় পরে তিনি চলে আসেন একেবারে সামনের সারিতে। আইনজীবীদের সঙ্গেই দাঁড়ান তিনি।

নয়া দিল্লি: আইটেম নম্বর ৩৭! সুপ্রিম কোর্টে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা এসআইআর মামলার সিকুয়েন্স নম্বর। বাংলা তো বটেই, গোটা দেশের নজর ছিল আজ সুপ্রিম কোর্ট। বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞদেরই একাংশ বলছেন, স্বাধীনতার পর দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার। কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, প্রশাসনিক প্রধান নিজেই সওয়াল করলেন সুপ্রিম কোর্টে, তাও আবার নিজেরই করা মামলায়।
বেলা ১টার কিছু পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর এজলাসে। প্রথম থেকেই হাজির ছিলেন মমতা। কিন্তু প্রথম তিনি বসেছিলেন পিছনের সারিতে। শুনানি শুরুর কিছু সময় পরে তিনি চলে আসেন একেবারে সামনের সারিতে। আইনজীবীদের সঙ্গেই দাঁড়ান তিনি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় ঘটমান এসআইআর পর্বের একাধিক দিক তুলে ধরেন। তাঁর সওয়ালের সিংহভাগই জুড়ে ছিল ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র প্রসঙ্গ।
এসআইআর পর্বে তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে অনেক ভোটারকে শুনানিতে তলব করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, নামের বানানের সমস্যা বা পদবি পরিবর্তন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে শুনানির নোটিস পেয়েছেন ভোটারেরা। সেই প্রসঙ্গ উদাহরণ দিয়ে প্রধান বিচারপতির সামনে বলতে থাকেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, কীভাবে মেয়েদের নামের পদবী বিয়ের পর বদলে যাওয়ায় তাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। কিন্তু এটা তো বাঙালিদের একটা রীতি। সেখানে কেন হস্তক্ষেপ করছে কমিশন? মমতার কথায়, “ একজন মেয়ের বিয়ের পর পদবী পরিবর্তন হয়। তাঁদের ডাকা হচ্ছে। অনেকে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন, তাঁদেরও ডাকা হচ্ছে। আপনার নির্দেশ অমান্য করেছে।”
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর নামের বানান প্রসঙ্গও উদাহরণ হিসাবে উত্থাপন করেন মমতা। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী তখন এজলাসে উপস্থিত রাকেশ দ্বিবেদী পদবীর উদাহরণ টেনে বলেন, ইংরাজিতে ‘ব’-এর উচ্চারণ ‘ভ’ হয়। কিন্তু বাংলাতেই ‘ব’ উচ্চারণ করতেই হবে। তখনই প্রধান বিচারপতি আরেকটি উদাহরণ টেনে বলেন, ‘রায়’, ‘দত্ত’, এই পদবীর ক্ষেত্রে বাংলায় আলাদা উচ্চারণ হয়। যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলে ‘টেগর’? রাজ্যকে প্রধান বিচারপতি উপদেশ দেন, কমিশনকে রাজ্যের ভাল বাংলা জানা টিম পাঠান। প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনি একটা টিম দিন। যাদের ইলেকশন কমিশন ডেপুটেশনে নেবে, যারা এই বানান ভুলের বিষয়টা দেখবে।”
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক যে ইস্যুকে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন দেশের সামনে, দেশের সুপ্রিম আদালতের বিচারপতিরাও সেই একই বিষয়টিতে সহমত! আর ঠিক সেই কারণেই নির্বাচন কমিশনকে নোটিস ইস্যু করতে বললেন প্রধান বিচারপতি। কমিশনের আধিকারিকদের আরও একটু বেশি সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ দিলেন। পাশাপাশি এটাও আদালতের পর্যবেক্ষণ, হয়তো মাইক্রো অবজারভার রাখার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই।
