
নয়া দিল্লি: মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের রাজনৈতিক তাৎপর্য হিসেবে সবথেকে বেশি আলোচিত হয় বাম-বিরোধী লড়াইয়ের কথা। ৩৪ বছরের বাম দুর্গের পতন ঘটানো নেত্রী হিসেবে ভারতীয় রাজনীতিতে বিশেষ পরিচিত রয়েছে মমতার। রাস্তায় নেমে, অনশন করেই হোক বা সংসদীয় রাজনীতিতেই হোক, সিপিএমকে সরাতে মমতা যে লড়াই লড়েছিলেন, তা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে লেখা থাকবে। তবে, বিজেপি বিরোধিতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় যদি সিপিএমের সঙ্গে পংক্তিতে দাঁড়ান, তাহলে তা নতুন ইতিহাস তৈরি করবে, এ কথা বলাই যায়। সেই পথেই কি এগোচ্ছেন মমতা?
আপাতত রাজ্যে না হলেও, জাতীয় রাজনীতিতে সিপিএমের সঙ্গে বেনজির সান্নিধ্যে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গে ফোনে কথা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক হোক, চান মমতা। এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানিয়ে ফোনে কথা বলেছেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও।
ইংরেজি দৈনিকে কমিশন সংক্রান্ত খবর প্রকাশের দিনই রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, উদ্ধব ঠাকরে সহ একাধিক বিরোধী নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। জ্ঞানেশ কুমার বিতর্ক নিয়ে দেশের সব বিরোধী নেতাদের পাশাপাশি মমতাকে আগেই চিঠি লিখেছিলেন এম এ বেবি। সিপিএম সাধারণ সম্পাদকের চিঠির জবাবে পাল্টা চিঠিও দিয়েছেন মমতা।
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থাকাকালীন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে সিপিএমের সঙ্গে এক টেবিলে বৈঠকে বসলেও কোনোদিন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যে একজোট হওয়া তো দূর অস্ত।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর বাসভবনে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গে আলাদা করে কিছুক্ষণ আলাপচারিতা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, সেই সময় এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বেবি এবং অভিষেকের কথাও হয়েছিল। সূত্রের খবর, ইন্ডিয়া জোটের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল- আপ (AAP), ডিএমকে (DMK), বিজেডি (BJD)-র মতো দলগুলিকেও কমিশন ইস্যুতে পাশে টানার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বেবি এবং মমতা।
সম্প্রতি কলকাতার মুকুন্দপুরে মমতা তৃণমূলের মিছিলে আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। আহত হন কর্মীরা। গুরুতর আহত হন প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরও। বিজেপি মারধর করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরের দিন সেই খবর প্রকাশ হয় সিপিএমের মুখপত্র গণশক্তিতে।