
মধ্য প্রদেশ: কাজের খোঁজে ১৫ বছর আগে যখন নিখোঁজ হয়েছিলেন তখন তিনি যুবক। বহু খোঁজার পরও না মেলায় শ্রাদ্ধশান্তিও করে ফেলে পরিবার। শেষে জানা যায় বেঁচে আছেন তিনি। তবে যতদিনে বাড়ির লোকেরা জানতে পেরেছেন, ততদিনে প্রৌঢ় হয়েছেন সেদিনের যুবক। তাকে ঘিরে এখন ধুম মধ্য প্রদেশের বালাঘাটের গ্রামে।
কাজের খোঁজে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে গিয়েছিলেন ব্রজলাল বৈগা। কিছুদিন যেতেই বাড়ির জন্য মন কেমন শুরু হয়। ফেরার রাস্তা ধরতেই বিপত্তি। ঝাঁ চকচকে শহরে ঝাপসা হয়ে আসে চোখ। পথ হারান। তারপর থেকেই বেপাত্তা। ফেরার পথ হারিয়ে ফেললেও রোজগারের চেষ্টা তিনি ছাড়েননি। এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্য ঘুরতে ঘুরতে কখনও কেরল, কখনও ঝাড়খণ্ড, এমনকী দিল্লির মতো রাজ্যও ঘোরা হয়ে গিয়েছে তাঁর।
গিয়েছেন মুসৌরি, এমনকী বাংলার হাওড়াও ছুঁয়ে গিয়েছেন একবার। সুপারিক্ষেতে কাজ করেছেন, নারকেল জল বিক্রি করেছেন। শেষে ঝাড়খণ্ড থেকেই তাঁর ঘরের ঠিকানা হারিয়ে ফেলার খবর জানতে পারেন এক সমাজকর্মী। ঘরের ঠিকানা নিয়ে প্রশাসনকে জানিয়ে তাদের মারফত ১৫ হাজার টাকা তাকে জোগাড় করে দিয়ে শেষে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করা হয়।
ঘর ছেড়ে ব্রজলাল যখন যান, তখন তাঁর বয়স ৩৭। যখন ফেরেন ৫২ হয়েছে। তাঁর বেঁচে থাকার খবর জানতে পেরে একইসঙ্গে বিস্মিত আবার আত্মহারা পরিবারের লোক। দুঃখে লজ্জায় কিছুটা কুকঁড়েও গিয়েছিলেন। বাড়ির ছেলেটার যে শ্রাদ্ধ হয়ে গিয়েছে! তবু কথায় আছে শেষ ভাল যার সব ভাল তার। ব্রজলাল অবশেষে বাড়ি ফেরায় খুশি সকলে। লোকে তো দেখতেও আসছেন তাঁকে।