Chhattisgarh’s Puvarti village: খতম হিদমার আতঙ্ক! স্বাধীনতার ৭৭ বছর এই প্রথম এই গ্রামে উড়ল তেরঙ্গা
Chhattisgarh's Puvarti village: ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট মধ্যরাতে লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। তারপর থেকে ৭৭টি বছর পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু, এতদিনের মধ্যে ছত্তীসগঢ়ের সুকমা জেলার পূর্বতী গ্রামে ওড়েনি তেরঙ্গা পতাকা। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমলে, অমৃতকালে তা সম্ভব হল।

সুকমা: ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট মধ্যরাতে লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। তারপর থেকে ৭৭টি বছর পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু, এতদিনের মধ্যে ছত্তীসগঢ়ের সুকমা জেলার পূর্বতী গ্রামে ওড়েনি তেরঙ্গা পতাকা। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমলে, অমৃতকালে তা সম্ভব হল। আসলে, এতদিন সুকমার এই গ্রামে সমান্তরাল সরকার চালাত মাওবাদীরা। সুকমা এবং বিজাপুর জেলার সীমান্তবর্তী এই গ্রামেই রয়েছে ভয়ঙ্কর মাওবাদী কমান্ডার হিদমা এবং তাঁর উত্তরসূরি বর্ষা দেবের পৈত্রিক ভিটে। এখানেই সদর দফতর খুলেছিল মাওবাদীরা। বারংবার চেষ্টা করেও, এতদিন গ্রামে প্রবেশ করতে পারেনি নিরাপত্তা বাহিনী। অবশেষে, অবসান ঘটেছে হিদমার সন্ত্রাসের। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি, নকশালদের এই সদর দফতরে পৌঁছে যান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। স্বাধীনতার এতগুলি বছর পর, মাওবাদী সদর দফতরে এখন উড়ছে ভারতের জাতীয় পতাকা।
একেবারে জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত পূর্বতী গ্রাম। তবে গত কয়েক দশকে, জঙ্গল সাফ করে এই গ্রামে সদর দফতর গড়ে তুলেছিল মাওবাদীরা। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, গ্রামে পুকুর খনন করে তারা মাছ চাষ করেছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। উঁচু পোস্ট তৈরি করে, পথচারীদের উপর নজর রাখত তারা। গ্রামের মাঝখানে তৈরি করেছিল এক বিশ্রামাগার। ভিন রাজ্য থেকে আসা মাওবাদী নেতা ও সদস্যদের সেখানে থাকার বন্দোবস্ত ছিল। বড় এলাকা জুড়ে জৈব চাষ করত তারা। বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি চাষ করত। ফলে, খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে বাইরের উপর নির্ভরশীল ছিল না তারা। কাছাকাছি এলাকাগুলিতে তারা সভাও করত। স্থানীয় যুবদের দলে নিয়োগ করত। গ্রামের ভিতর যুবদের প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা ছিল।
পূর্বতী গ্রাম, সুকমা শহর থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। চারিদিকে রয়েছে পাহাড় এবং ঘন জঙ্গল। গত চার দশক ধরে এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ ছিল মাওবাদীদের হাতে। গোটা এলাকা তারা হাতুর তালুর মতো চিনত। নিরাপত্তা বাহিনী যখনই এই এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেছে, তখনই বাহিনীকে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। বোরকাপাল, কাসালপাড়, তাড়মেতলা এবং তেকালগুদেমের মতো এলাকাগুলিতে মাওবাদী হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২০ জনেরও বেশি সদস্য শহিদ হয়েছেন। পূর্বতী গ্রাম নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে চলে যাওয়ায় মাওবাদীদের মনোবলে গুরুতর আঘাত লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেনারা কোনওদিন পূর্বতী গ্রামে পৌঁছতে পারে, কল্পনাও করতে পারেনি মাওবাদীরা।

হিদমার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন সুকমা জেলার পুলিশ সুপার, কিরণ চভন
গত কয়েক মাসে অবশ্য এই এলাকায় অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। বস্তার জেলার পুলিশের আইজি, সুন্দররাজ পি জানিয়েছেন, ৩০ জানুয়ারি সুকমা এবং বিজাপুর জেলার সীমান্তবর্তী তেকালগুদেম গ্রামে একটি শিবির স্থাপন করেছিল নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের পরবর্তী লক্ষ্য ছিল পূর্বতী গ্রামে শিবির স্থাপন করা। তবে, তার জন্য বাহিনীকে কম কাঠ-খড় পোড়াতে হয়নি। মাওবাদীরা তাদের সদর দফতর রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। ১০ বারের বেশি দুই পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মাওবাদীর আইইডি বিস্ফোরণও ঘটায়। কিন্তু, সেনার মনোবল ভাঙতে পারেনি। ড্রোন মারফৎ ক্রমাগত আকাশপথে নজরদরি চালিয়ে এবং একের পর এক হমলা করে, সুকমা জেলা পুলিশ এবং সিআরপিএফ কর্মীদের যৌথ বাহিনী, গত রবিবার পূর্বতী গ্রামে পৌঁছে যায়। গ্রামে একটি পুলিশ ক্যাম্পও স্থাপন করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে শিবিরটিকে, সিআরপিএফ-এর ফরওয়ার্ড অপারেটিং বেসে পরিণত করা হবে। ফলে, ভবিষ্যতে ওই এলাকায় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান হলে, পূর্বতী গ্রাম থেকেই সেনা পাঠানো যাবে। আগে যেখানে তাদের ঘটনাস্থলে পৌঁছতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগত, এখন অনেক দ্রুত পৌঁছে যেতে পারবে।
এদিকে, এই গ্রামেই বাড়ি মাওবাদী কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিদমার এবং পিএলজিএ প্লাটুন নম্বর ১-এর কমান্ডার বর্শা দেবের। হিদমার মাথার দাম ধার্য হয়েছে ৩০ লক্ষ টাকা। গ্রামে তেরঙ্গা ওড়ানোর পর, সুকমা জেলার পুলিশ সুপার, কিরণ চভন হিদমার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। হিদমার মাকে তিনি সম্ভাব্য সকল সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। গ্রামবাসীদের মাওবাদী কর্মকান্ড থেকে দূরে থাকতে বলেছেন তিনি। স্বাধীনতার ৭৭ বছর পরও এই গ্রামে কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছয়নি। এখন, পকা রাস্তা তৈরি করে এই গ্রামে উন্নয়ন পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। মাওবাদীদের চাপে, গ্রামের অনেক পুরুষই গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। তাঁদের গ্রামে ফিরে আসার ডাক দিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় যে যুবকরা মাওবাদীদের দলে নাম লিখিয়েছে, তাদের সেই পথ ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। যোগদান এবং বাহিনীকে সমর্থন করার এবং গ্রামের উন্নয়নে গ্রামবাসীদের সহযোগিতা করার আবেদনও জানিয়েছেন। গ্রামের উন্নয়নে গ্রামবাসীদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
