
মুম্বই: যে বারামতী থেকে উত্থান, সেই বারামতীতেই নিস্তেজ হলেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। দূর্গ রয়েছে দূর্গের মতো, কিন্তু তাতে নেই সম্রাট। তা হলে ‘পাওয়ার পলিটিক্সের’ ইতি এখানেই? অজিত পাওয়ারের পর তাঁর ছেড়ে যাওয়া সাম্রাজ্যের দায়িত্ব নেবেন কে? দুই পুত্রের এক পুত্র রাজনীতিতে নামলেও, অভিজ্ঞতার নিরিখে সে কনিষ্ঠ। আরেক পুত্র রাজনীতি থেকে শতহস্ত দূরে। মন বেশি ব্য়বসায়িক কাজকর্মে। তা হলে ব্যাটম ধরবে কে?
সূত্রের খবর, ‘দাদা’ অজিত পাওয়ার আকস্মিক প্রয়াণের পর তাঁর ছেড়ে যাওয়া কুর্সিতে বসতে পারেন স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার। বর্তমানে তিনি রাজ্যসভা সাংসদ। তাঁর হাতে প্রয়াত অজিত পাওয়ার কুর্সি সপে দিতে চায় দল। আর জনসমক্ষে সেই ইঙ্গিতটা দিয়েও দিয়েছেন এনসিপি নেতা তথা মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নরহরি জিরওয়াল। বৃহস্পতিবার সংবাদসংস্থা পিটিআইকে তিনি বলেন, ‘দাদার পর মানুষ বহিনীকেই (বউদি) যোগ্য বলে মনে করছে।’
ইতিমধ্য়েই শূন্যস্থান পূরণে সুনেত্রা পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এনসিপি-র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রফুল প্যাটেল, ছগন ভুজবল এবং সুনীল তটকরে। মনে করা হচ্ছে, এই বৈঠক থেকেই সুনেত্রার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে এনসিপি। প্রথমে বারামতী আসন থেকে তাঁকে টিকিট দেওয়া, তারপর সেই জিতে গেলে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া। তবে একাংশ মনে করছেন, উপমুখ্যমন্ত্রী পদ দেওয়ার বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রয়েছে দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের হাতে।
উল্লেখ্য ১৯৯১ সালে বারামতী লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রয়াত অজিত পাওয়ার। কিন্তু কাকা শরদ পাওয়ারকে যেহেতু কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে হত, তাই এক কথায় সেই জেতা আসন শরদ পাওয়ারকে ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় এমনই ছিল কাকা-ভাইপোর জুটি। তবে সময়ের কালে তাতে ভাঙন ধরেছে। এলোমেলো হয়েছিল গল্পের পাতাগুলি। কিন্তু বারামতী থেকেছে অজিতের ‘পাওয়ার পলিটিক্সের’ কেন্দ্রস্থল। যা এখন একেবারে শূন্য।