NRC citizenship proof: NRC নথি নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, স্পষ্ট করে দিল হাইকোর্ট
Gauhati High Court NRC ruling: গুয়াহাটি হাইকোর্টে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার মেধি এবং বিচারপতি শামিমা জাহানের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল। আদালত শুনানিতে বলে, “কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট রেফারেন্স ছাড়া ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল পরিবারের অন্য সদস্যদের বিদেশি ঘোষণা করতে পারে না।”

গুয়াহাটি: ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসাবে ন্য়াশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন বা এনআরসির নথিকে প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করা যাবে না। ফের একবার এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল গুয়াহাটি হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে কোনও ব্যক্তিকে বিদেশি ঘোষণা করা হলেও, শুধুমাত্র সেই কারণ দেখিয়ে তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের বিদেশি বলা যাবে না, যদি না তাঁদের বিরুদ্ধে আলাদা করে নির্দিষ্ট রেফারেন্স বা মামলা দায়ের করা হয়।
গুয়াহাটি হাইকোর্টে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার মেধি এবং বিচারপতি শামিমা জাহানের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল। আদালত শুনানিতে বলে, “কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট রেফারেন্স ছাড়া ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল পরিবারের অন্য সদস্যদের বিদেশি ঘোষণা করতে পারে না।”
আদালত পূর্ববর্তী একটি মামলার উল্লেখ করে জানায়, পরিবারের একজন সদস্য বিদেশি ঘোষিত হলেও, সেই সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য সদস্যদের উপর প্রযোজ্য হবে না। তবে প্রয়োজনে প্রশাসন নতুন করে তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক রেফারেন্স শুরু করতে পারে।
এই মামলায় আবেদনকারী মায়া দাস দাবি করেছিলেন, তিনি নিবারণ চন্দ্র দাসের মেয়ে। ১৯৬৫ সালের ভোটার তালিকা এবং ১৯৬৬ সালের এনআরসি (NRC) ডকুমেন্টের মাধ্যমে তিনি নিজের ভারতীয় পরিচয় প্রমাণের চেষ্টা করেন। বাবার সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণ করতে তিনি স্কুল সার্টিফিকেট এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের শংসাপত্রও জমা দেন। কিন্তু ২০১৯ সালে শিলচরের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বিদেশি ঘোষণা করে। শুধু তাই নয়, তাঁর দুই ছেলে দিজু ও পিন্টু এবং তিন মেয়ে মুক্তা, সুক্তা ও বিজয়াকেও বিদেশি বলে ঘোষণা করা হয়।
এরপর মায়া দাস গুয়াহাটি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। তাঁর দাবি ছিল, তিনি যথেষ্ট নথি জমা দিয়েছেন এবং সেগুলির বিরোধিতা করা হয়নি। অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬-এর ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী নাগরিকত্ব প্রমাণের দায় সম্পূর্ণভাবে আবেদনকারীর উপরই বর্তায় এবং তিনি সেই দায় পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
মঙ্গলবার হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, স্কুলের শংসাপত্রের লেখককে আদালতে হাজির করা হয়নি, ফলে সেই নথি যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়নি। একইভাবে পঞ্চায়েতের শংসাপত্রটি কেবল বিবাহের তথ্য প্রমাণ করে, পিতৃত্বের সম্পর্ক নয়। আদালত আরও জানায়, মৌখিক সাক্ষ্যকে সমর্থন করার জন্য সমসাময়িক সরকারি নথি প্রয়োজন।
তবে ট্রাইব্যুনাল যে আবেদনকারীর সন্তানদেরও বিদেশি ঘোষণা করেছিল, সেই সিদ্ধান্তকে আইনি ত্রুটি বলে উল্লেখ করে হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানায়, প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আলাদা রেফারেন্স ছাড়া তাঁদের বিদেশি ঘোষণা করা যায় না।
ফলে আদালত মায়া দাসকে বিদেশি ঘোষণার ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলেও, তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে দেওয়া পর্যবেক্ষণ বাতিল করে দেয়। একইসঙ্গে প্রশাসনকে প্রয়োজনে নতুন করে তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা শুরু করার স্বাধীনতাও দেওয়া হয়েছে।
আদালত আরও উল্লেখ করেছে, এই রায় আবেদনকারীর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর অধীনে নাগরিকত্বের আবেদন করার অধিকারকে কোনওভাবেই প্রভাবিত করবে না।
