India-Pakistan: মাঝ সমুদ্রে ভারতের নৌযানে ধাক্কা পাক যুদ্ধজাহাজের, তড়িঘড়ি পাক-দূতকে তলব
Pakistan navy ship: নয়া দিল্লিতে নিযুক্ত পাক দূতকে তলব করা হয়েছে। তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারতের এই প্রতিবাদ যেন পাক বিদেশ মন্ত্রকে পৌঁছে দেওয়া হয়। ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় দূতকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পাক বিদেশ মন্ত্রকের কাছে ভারতের অভিযোগ জমা দিতে হবে।

নয়া দিল্লি: মাঝ সমুদ্রে সংঘর্ষ! ভারতীয় নৌবাহিনীর ভেসেলে ধাক্কা পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজের। ভারতীয় নৌসেনা যখন আরব সাগরে রুটিন টহলদারি চালাচ্ছিল, সেই সময় খুব কাছাকাছি চলে আসে ভারত ও পাকিস্তানের জাহাজ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তর আরব সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। পাক নৌসেনার এই আচরণ মোটেই ভালোভাবে নেয়নি ভারত।
নয়া দিল্লিতে নিযুক্ত পাক দূতকে তলব করা হয়েছে। তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারতের এই প্রতিবাদ যেন পাক বিদেশ মন্ত্রকে পৌঁছে দেওয়া হয়। ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় দূতকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পাক বিদেশ মন্ত্রকের কাছে ভারতের অভিযোগ জমা দিতে হবে।
চরম ক্ষুব্ধ ভারত
ভারতীয় সরকারি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের নৌযানটি সমুদ্রে “অপেশাদার এবং নিরাপত্তাহীনভাবে” ঘোরাফেরা করছিল। সেই কারণেই সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভারতীয় নৌযান বা ভেসেলটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় রুটিনমাফিক নজরদারি চালাচ্ছিল বলে সরকারি সূত্রের খবর।
তবে এখনও পর্যন্ত ভারতীয় যুদ্ধজাহাজে কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানি জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিতও প্রকাশ্যে আসেনি।
কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?
এটি শুধু একটি সামুদ্রিক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছে না ভারত। দুই দেশের নৌবাহিনীর জাহাজ জড়িত থাকায় ঘটনাটি কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি নৌবাহিনীর এই আচরণ ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান চুক্তির Article 10-এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ওই চুক্তিতে সামরিক মহড়া, manoeuvre এবং সেনা চলাচল সম্পর্কে আগাম নোটিস ও আচরণবিধির বিষয় রয়েছে।
চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা আছে, যুদ্ধজাহাজের টহলদারি চলার আগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে আগে থেকে রুট, সময় সব জানাতে হয়। পাকিস্তান ও বাকি দেশের নৌবাহিনীকেও এক্ষেত্রে ভারতের নৌবহিনীর গতিবিধির বিষয় জানানো ছিল।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাকিস্তানকে তুরষ্ক, সৌদি আরবের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। সেই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই তিন দেশের মধ্যে একটি দেশ যদি কোনও শত্রু দেশের তরফে আক্রান্ত হয়, তাহলে বাকি দুই দেশ পাশে দাঁড়াবে। সেই চুক্তির ঠিক পরই এই সংঘর্ষের ঘটনা।
