PM Modi News: একের পর এক বাণিজ্যিক সমঝোতায় ‘গোল দিচ্ছে’ ভারত! সাফল্যের ফর্মুলা বোঝালেন মোদী
PM Modi News Today: মোদীর কথায়, যে কোনও দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনায় দু'টি বিষয় ভারতকে শক্তিশালী করে তুলছে। তা হল — ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর এবং ভারতের ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পগুলি। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশ নিয়ে তৈরি পরিষদ বা গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য় নিয়ে আলোচনার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে নয়াদিল্লি।

নয়াদিল্লি: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যেখানে নিশ্চিত, সেই দেশের উপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই কথাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রতিটি মুক্ত বাণিজ্য় চুক্তির ক্ষেত্রে ভারত কীভাবে একের পর এক গোল দিয়ে যাচ্ছে, সেই ফর্মুলাও বলে দিলেন তিনি।
মোদীর কথায়, যে কোনও দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনায় দু’টি বিষয় ভারতকে শক্তিশালী করে তুলেছে। তা হল — ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর এবং ভারতের ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পগুলি। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশ নিয়ে তৈরি পরিষদ বা গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য় নিয়ে আলোচনার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে নয়াদিল্লি। এই চুক্তির আওতায় মূলত মুক্ত বাণিজ্য সফল করতে দুই পক্ষের কী কী শর্ত রয়েছে সেই নিয়ে প্রথমে আলোচনা হবে। তাতে উভয় পক্ষ রাজি হলে হবে চুক্তি ঘোষণা।
জিসিসি-র সঙ্গে করা এই আলোচনা চুক্তিকে জুড়ে কয়েক বছরেই মোট নয়টি আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষর করে ফেলেছে ভারত। যার মধ্য়ে উল্লেখ্যযোগ্য হল ‘সকল চুক্তির জননী’ বা ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। শুধুমাত্র ওই একটি চুক্তি ঘোষণার মাধ্যমে নয়াদিল্লি একযোগে ২৭টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা তৈরি করেছে। এছাড়াও আর সকল আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলি জুড়ে দিলে মোট দেশের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩৮টি।
ভারতের এই বাণিজ্য়িক উত্থানকেই উল্লেখ করে পিটিআইকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আগে ভারতের উপর বিশ্বের আস্থা ছিল না। তাই ভারত কোনও বাণিজ্য়িক আলোচনাতেই সফল হয়নি। ইউপিএ আমলে আলোচনা শুরু হত, তারপর সব শেষ।” কিন্তু এই সবটাই এখন অতীত। মোদীর মতে, এনডিএ জমানা শুরুই হয়েছে ‘ইউপিএ জমানার ভুল শুধরে দেওয়ার মাধ্য়মে’। তাঁর কথায়, “আমাদের প্রতিশ্রুতি সংস্কারের প্রতি। যা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে দেখিয়েছি।”
এনডিএ জমানার বাজেট নিছকই কোনও সাধারণ ‘হিসাবপত্র’ নয়, সেই কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই বাজেট ‘২০৪৭ সাল পর্যন্ত ভারতের উন্নতির ব্লু প্রিন্ট।’ এই মর্মে গত ২৫ বছরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মোদীর সংযোজন, ‘বাজেট নিয়ে আমরা কোনও সাময়িক পদক্ষেপ করি না, এটা সামগ্রিক দেশ গঠনের পরিকল্পনা। এই বাজেট রিফর্ম এক্সপ্রেসের গতি আরও বাড়াবে।’
বাজেটের প্রসঙ্গ উঠেছে, তখন প্রতিরক্ষার কথা না বললেই নয়। চলতি বছর প্রতিরক্ষা খাতে আরও বাজেট বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যের পর দেশের প্রতিরক্ষায় সাত লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কেন্দ্র। মোদীর মতে, প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি যে শুধুই দেশকে মজবুত করবে তা নয়, বরং দেশের অন্দরে বাড়বে কর্মসংস্থানও। আগের তুলনায় আরও বেশি আত্মনির্ভর হবে ভারত।
