PM Modi: বাংলার ভাগ্যবদল, ‘বদলা নয়, বদল চাই’, BJP সদর দফতরে মোদীর বিজয় হুঙ্কার

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনব্যবস্থা নয়, এটি ভারতীয়দের রক্তে থাকা সংস্কার। আজ ২০টিরও বেশি রাজ্যে বিজেপি ও এনডিএ-র সরকার থাকা প্রমাণ করে যে মানুষ সুশাসনেই আস্থা রাখে।

PM Modi: বাংলার ভাগ্যবদল, ‘বদলা নয়, বদল চাই’, BJP  সদর দফতরে মোদীর বিজয় হুঙ্কার
নরেন্দ্র মোদীImage Credit source: Tv9 Bangla

May 04, 2026 | 9:13 PM

নয়াদিল্লি: সোমবার সন্ধ্যায় এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল নয়াদিল্লির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়। পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে দলের অভাবনীয় সাফল্যের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সেখানে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরনে চিরাচরিত বাঙালি ধুতি-পাঞ্জাবি, মুখে ‘ভারত মাতা কী জয়’ ধ্বনি—প্রধানমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দিলেন যে,বাংলার মাটিতে এক নতুন সূর্যোদয় ঘটেছে।

ঐতিহাসিক বিজয় ও নারীশক্তির জয়গান

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শুরুতেই এই দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন,”নারী শক্তি আজ বিকশিত ভারতের সংকল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছে। কংগ্রেস ও তার সহযোগীরা ‘নারী শক্তি বন্দন’ বিলে বাধা দিয়ে নারীশক্তির অপমান করেছিল, যার যোগ্য জবাব বাংলার মা-বোনেরা দিয়েছেন। মোদীর কথায়, “কংগ্রেস, তৃণমূল (TMC) ও ডিএমকে (DMK)-কে এদেশের মা-বোনেরা আজ উচিত শিক্ষা দিয়েছেন।”

বাংলার নতুন অধ্যায়: ‘ভয়মুক্ত পশ্চিমবঙ্গ’

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসকে স্পর্শ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,”আজ ডক্টর শ্যামাপ্রাসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেয়েছে। তিনি যে বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন,৪ মে ২০২৬-এ বাংলার মানুষ সেই সুযোগ বিজেপি কর্মীদের হাতে তুলে দিয়েছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “ভয়মুক্ত সমাজ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হিংসার অবসান ঘটিয়ে বাংলা আজ ভয়মুক্ত হয়েছে।”

শান্তিপূর্ণ ভোট: এবারই প্রথম বাংলায় কোনও প্রাণহানি ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে, যা এক নতুন অধ্যায়।

কংগ্রেস ও বামপন্থাকে আক্রমণ: প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন,”কংগ্রেস আজ আর্বান নকশালদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। যে মাওবাদ জঙ্গল থেকে শেষ হয়ে যাচ্ছে, কংগ্রেস তাকে নিজেদের দলের অন্দরে জায়গা দিচ্ছে।” তিনি মনে করিয়ে দেন যে, আজ দেশে এমন একটিও রাজ্য নেই যেখানে কমিউনিস্ট শাসন টিকে আছে। এটি কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং চিন্তাধারার বদল।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন-

প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক: সরকার গঠনের পর প্রথম ক্যাবিনেটেই পশ্চিমবঙ্গে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনা কার্যকর করার ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

অনুপ্রবেশ: সীমান্ত পেরিয়ে আসা অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর: প্রধানমন্ত্রীর কথায়, গঙ্গার তীরবর্তী প্রতিটি রাজ্যে আজ এনডিএ সরকার প্রতিষ্ঠিত, যা উন্নয়নের জোয়ারকে ত্বরান্বিত করবে।

বিজেপি কর্মীদের বলিদানকে সম্মান: কেরল ও বাংলার বুথ স্তরের কর্মীদের ওপর হওয়া অত্যাচারের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি এই জয়কে বাংলার সাধারণ মানুষ এবং সেই সমস্ত সাহসী কর্মীদের উৎসর্গ করেন যারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দলের ঝাণ্ডা ধরে রেখেছিলেন।

এ দিন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। নীতিন নবীন তাঁর ভাষণে বলেন, “এই জয় ২০২৪-এর অপূর্ণতা পূরণ করেছে এবং ‘ইন্ডি’ (I.N.D.I.A) জোটের তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার শুরু।”

অসম: ব্রহ্মপুত্রের আশীর্বাদে সেখানে তৃতীয়বার সরকার গড়ছে বিজেপি।

পুডুচেরি ও অন্যান্য: তামিলনাড়ু, কেরল ও পুডুচেরিতেও রেকর্ড ভোটদান ও জনসমর্থন এনডিএ-র শক্তি বৃদ্ধি করেছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনব্যবস্থা নয়, এটি ভারতীয়দের রক্তে থাকা সংস্কার। আজ ২০টিরও বেশি রাজ্যে বিজেপি ও এনডিএ-র সরকার থাকা প্রমাণ করে যে মানুষ সুশাসনেই আস্থা রাখে।

 

Follow Us