
নয়াদিল্লি: এসআইআর এবং ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে এবার রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ বিরোধীরা। শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ইন্ডি জোটের প্রতিনিধিরা। স্মারকলিপি জমা দেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, বিরোধীদের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ রাষ্ট্রপতি খারিজ করে দেননি। রাষ্ট্রপতি প্রমাণ চেয়েছেন। তাঁদের কাছে প্রমাণ রয়েছে বলে লোকসভার বিরোধী দলনেতা দাবি করেন। এদিকে, রাহুলদের নিশানা করে বিজেপি বলল, “কংগ্রেস রাষ্ট্রপতির দফতরকে রাজনীতির মধ্যে টেনে এনেছে।”
স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রতিবাদের মধ্যেই এদিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন বিরোধী সাংসদরা। বৈঠকের পর রাহুল গান্ধী জানান, রাষ্ট্রপতি তাঁদের বক্তব্য শুনেছেন এবং ‘ভোট চুরি’র প্রমাণ চেয়েছেন।
এক্স হ্যান্ডলে রাহুল লেখেন, “ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে একটি অবিশ্বাস্য বৈঠক করলাম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কীভাবে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে গুরুতরভাবে দুর্বল করছেন, তা তুলে ধরে আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। পাশাপাশি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছি। রাষ্ট্রপতি যে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ খারিজ করেননি, তা দেখে আমি হতবাক ও বিস্মিত।”
রাহুলের দাবি, রাষ্ট্রপতিকে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনে ‘চুরি’র প্রমাণ দেশের মানুষের কাছে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, একের পর এক রাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর বিরোধীদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়। ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। বিরোধী জোটের আঞ্চলিক দলগুলির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা রাজীব রাই, এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লা।
রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, “রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া আমাদের স্মারকলিপিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ভারতীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করেছেন।” সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকেও স্মারকলিপি দিতে চান রাহুলরা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা এদিন বলেন, “প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আমরা সোমবার সুপ্রিম কোর্টে যাব। তাঁকেও স্মারকলিপি দেব।”
অন্যদিকে, ইন্ডি জোটের এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, কংগ্রেস রাষ্ট্রপতির দফতরকে রাজনীতির মধ্যে টেনে এনেছে। তিনি বলেন, “এটা একেবারেই স্পষ্ট যে, দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলি সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি করা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া এবং তা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলাই কংগ্রেসের একমাত্র উদ্দেশ্য। এদিন রাষ্ট্রপতি ভবনের বাইরে তারা যা করেছে, তাতে সেই সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।”