
নয়া দিল্লি: ভোট চুরির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক নেতা। পিটিশন ফাইল করা হয়েছে। তাতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি থেকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কিন্তু মামলা দায়ের করতেই বিপত্তি! বিরোধীদের যৌথ মামলার আবেদন নাকি ভুলে ভরা। ১৪টি ত্রুটি চিহ্নিত করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এমনকী, কোর্ট ফি বাবদ ২২০ টাকা কম জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
সোমবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পথে নামেন বিরোধী জোটের নেতারা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা এবং ভোট চুরির অভিযোগের তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিল করেন তাঁরা। সেই সময়ই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেন বিরোধীদের আইনজীবীরা।
কিন্তু সেই মামলার আবেদনেই একাধিক ত্রুটি ধরা পড়েছে বলে অভিযোগ। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি জানিয়েছে, মোট ১৪টি ত্রুটি রয়েছে আবেদনে। তার মধ্যে অন্যতম হল কোর্ট ফি বাবদ ২২০ টাকা কম জমা দেওয়া। পাশাপাশি, ৯ জন আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র জমা দেওয়া হয়নি।
এখানেই শেষ নয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের পরিচয়পত্রের স্পষ্ট ফটোকপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবেদনের বেশ কিছু জায়গায় অত্যন্ত ছোট অক্ষরে লেখা রয়েছে বলেও আপত্তি জানানো হয়েছে। দু’টি নির্দিষ্ট নথির রঙিন কপি জমা দেওয়া হয়নি। এছাড়া কিছু নথির লেখা অস্পষ্ট, কয়েকটি পৃষ্ঠা অনুপস্থিত, আঞ্চলিক ভাষায় লেখা পৃষ্ঠা এবং পৃষ্ঠা নম্বরের অসঙ্গতির বিষয়ও উল্লেখ করেছে রেজিস্ট্রি। এই সমস্ত ত্রুটি সংশোধন করার পরই মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা যাবে।
সুপ্রিম কোর্টে এই যৌথ মামলা দায়ের করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনা (উদ্ধব শিবির)-র নেতা সঞ্জয় রাউত, ডি রাজা, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাজি, এম এ বেবি এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের নেতা ই টি মহম্মদ বশির।
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে মামলাটি ‘রাহুল গান্ধী বনাম ভারতের নির্বাচন কমিশন’ নামে নথিভুক্ত হয়েছে। এই মামলায় মোট ১০ দফা প্রতিকার চেয়েছেন বিরোধী জোটের নেতারা।
এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত নথি আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তগুলির সাংবিধানিক বৈধতা খতিয়ে দেখা, অনিয়মের জন্য দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আবেদনকারীদের অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং একটি স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে অডিট করানোর দাবিও জানানো হয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। সেই কারণেই নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।
সোমবার দিল্লিতে বিপুল সংখ্যক বিরোধী নেতা-কর্মী সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিল করেন। তার আগে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করার আবেদন জানিয়েছিলেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল প্রধান বিচারপতির হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া।
ওই স্মারকলিপিতে ভোট চুরির অভিযোগের নিষ্পত্তি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ এবং ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ ফের চালু করার দাবি জানানো হয়েছিল। যদিও প্রধান বিচারপতি তাঁদের সঙ্গে দেখা করার আবেদন খারিজ করে দেন। বিষয়টি বিচারাধীন বলেই তিনি সাক্ষাতের আবেদন গ্রহণ করেননি বলে জানিয়েছে।
তবে মিছিলের আগে বিরোধী নেতারা কীভাবে নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের দরজা সকলের জন্য খোলা। সাধারণ নাগরিক হোন কিংবা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, প্রত্যেকেই আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।
শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করলেও আবেদনে একাধিক ত্রুটি ধরা পড়ায় আপাতত সেগুলি সংশোধন করতে হবে বিরোধীদের। তারপরই মামলার শুনানির প্রক্রিয়া এগোতে পারবে বলে জানা গিয়েছে।