
নয়াদিল্লি: ‘আপনি বাস্তব থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন’, শুক্রবার পথকুকুরদের নিয়ে চলা একটি মামলার শুনানিপর্বে অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরকে ভর্ৎসনা দেশের শীর্ষ আদালতের। এমনকি, শুনানিপর্বে তাঁর সওয়ালকারীর যুক্তিকেও খারিজ করল বিচারপতি বেঞ্চ।
বুধবার থেকে বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং এনভি আঞ্জারিয়ার তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে পথকুকুর সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। গত ৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট স্কুল, রেলস্টেশন, হাসপাতাল চত্বর থেকে পথকুকুরদের সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল। তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছিল, নির্বীজকরণের জন্য পথকুকুরদের এই সব এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেখানে আর তাদের ফেরানো চলবে না। এরপরই একের পর এক মামলা দায়ের হতে শুরু হয় শীর্ষ আদালতে।
তৃতীয় দিনের শুনানিতে অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের যুক্তি শোনে শীর্ষ আদালত। এদিন শুনানিপর্বে এইমস-এ থাকা গোল্ডি নামে একটি পথকুকুরের কথা উল্লেখ করেন শর্মিলার হয়ে উপস্থিত সওয়ালকারী। পাশাপাশি, তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চকে তিনি জানান, ‘যদি কমিটি তৈরি করা যেত, যাঁরা কোনও প্রতিষ্ঠানে আশ্রিত পথকুকুরদের আচরণ বোঝার চেষ্টা করবে, তা হলে বিষয়টা ভাল হত। কোনও দুর্ঘটনার আগেই জানা যেত পথকুকুরটি আক্রমণাত্মক নাকি সকলের সঙ্গে মিলেমিশে চলে।’
এই যুক্তি শোনার পর ভর্ৎসনার সুরে বিচারপতিরা বলেন, ‘আপনি বাস্তব থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন। হাসপাতালে থাকা এই পথকুকুরদের মহান করার কোনও প্রয়োজন নেই।’ বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, ‘রাস্তায় থাকা বেশির ভাগ কুকুরই টিকে (এক প্রজাতির পোকা) আক্রান্ত। যা হাসপাতাল চত্বরের জন্য মোটেই সুস্থ পরিবেশ তৈরি করে না।’
পাল্টা আর্মেনিয়া ও জোর্জিয়ার উদাহরণ টেনে শর্মিলা ঠাকুরের আইনজীবী বলেন, ‘কুকুরগুলি গলায় রঙ-বেরঙের কলার লাগিয়ে দেওয়া যেতে পারে।’ এই রঙিন কলারগুলি আসলে তাদের আচরণের প্রতীক হিসাবে কাজ করবে। কিন্তু সেই যুক্তিও খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, ‘ওই দেশগুলি জনসংখ্য়া কত বলুন তো? একটু বাস্তবিক হন।’