SIR Case In SC: SIR-এ গ্রহণযোগ্য আধার ও অ্যাডমিট কার্ড, তবে শুনানিতে উঠল আধার-জালিয়াতি প্রসঙ্গও
SIR Case In SC: বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির একটি তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, "কোন ভোটার নাম তালিকাভুক্ত করতে এগিয়ে এলেন, তা আমাদের চিন্তার বিষয় নয়। আমাদের চিন্তার বিষয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা।" জনস্বার্থ মামলাকারীর আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় বলেন, "সীমান্ত সংলগ্ন জেলায় সবথেকে বেশি আধার কার্ড তৈরি হচ্ছে। আধার কার্ড ফেক কিনা তা খতিয়ে দেখার কথা নির্দেশে দয়া করে বলুন। সারা দেশে যেখানেই কাউকে ধরা হচ্ছে, দেখা যাচ্ছে তার আধার কার্ড বাংলায় তৈরি।"

নয়া দিল্লি: এসআইআর-এর নথি যাচাইয়ে এবার বাংলায় ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা থেকে জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি জে. ভিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ। এসআইআর-এর বাকি নথি যাচাইয়ে দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই এই নির্দেশ। পাশাপাশি মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এদিনের শুনানিতে উঠে আসে বাংলার আধার-জালিয়াতির অভিযোগ প্রসঙ্গও। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আধার কার্ড এবং অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে মান্যতা পাবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ‘কাট অফ ডেট’ অনুযায়ী ডকুমেন্টস গৃহীত হবে। দায়িত্বে থাকা জুডিশিয়াল অফিসারকে তথ্য এবং ডকুমেন্টস এর গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে বোঝানোর দায়িত্ব থাকবে ERO এবং AERO র।
এক্ষেত্রে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির একটি তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, “কোন ভোটার নাম তালিকাভুক্ত করতে এগিয়ে এলেন, তা আমাদের চিন্তার বিষয় নয়। আমাদের চিন্তার বিষয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা।” জনস্বার্থ মামলাকারীর আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় বলেন, “সীমান্ত সংলগ্ন জেলায় সবথেকে বেশি আধার কার্ড তৈরি হচ্ছে। আধার কার্ড ফেক কিনা তা খতিয়ে দেখার কথা নির্দেশে দয়া করে বলুন। সারা দেশে যেখানেই কাউকে ধরা হচ্ছে, দেখা যাচ্ছে তার আধার কার্ড বাংলায় তৈরি।”
প্রধান বিচারপতি বলেন, “এ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। এখন এ বিষয়ে নির্ধারণ করার সঠিক সময় নয়।”
আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়: এসআইআর একটা বেঞ্চমার্ক হয়ে থাকবে।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি: যদি ব্যাপক মাত্রায় আধার জালিয়াতি হয়ে থাকে, তার জন্য আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন। সলিসিটর জেনারেলকে কেন্দ্রীয় সরকারকে বলতে হবে, তার জন্য জনপ্রতিনিধিত্ব আইন সংশোধন করতে। যদি অন্যায় ভাবে কোন রিসিট তৈরি করা হয়, তাহলে ERO তা দেখবে।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়ে দেয়, যখনই কোন ভোটার নথি জমা দেবেন, তখন তাকে রিসিট দিতে হবে।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি: অনেক ভোটার এমন রয়েছেন, যাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে তাঁদের নথি জমা দিয়েছেন। কিন্তু কমিশনের ওয়েবসাইটে যান্ত্রিক গোলযোগ হয়ে গিয়েছে। এক্ষেত্রে যাঁরা নথি জমা দিয়েছেন, তাঁদের কোনও দোষ নয়।
এ প্রসঙ্গে আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় বলেন, “বাংলার ক্ষেত্রে আধার কার্ডের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মহরাষ্ট্র, গুজরাট, কেরল, কাশ্মীর-গোটা দেশে যেখান থেকেই রোহিঙ্গা, বাংলাদেশিদের ধরা হয়েছে, তাদের কাছ থেকে যে নথি উদ্ধার হয়, সেটা পশ্চিমবঙ্গেরই। আধার অ্যাক্টে লেখা রয়েছে, কোনও বিদেশি ৬ মাসের বেশি ভারতে থাকতেই আধার কার্ড বানাতে পারবেন। এই আইনের অপব্যবহার করেই ওরা ২ হাজার টাকার বিনিময়ে আধার কার্ড বানিয়ে নিচ্ছে। বাংলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে জনসংখ্যার থেকে বেশি আধার কার্ড তৈরি হচ্ছে। এদিন সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, আধার কেবল আইডেনটিটি প্রুফ হিসাবেই গ্রহণযোগ্য হবে।”
