
নয়াদিল্লি: মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের মৃত্যু নিয়ে সর্বপ্রথম ইঙ্গিতে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোকপ্রকাশের পাশাপাশি বিমান দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেই জানিয়েছিলেন তিনি। তবে পরে শরদ পওয়ার বলেছিলেন, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতি না জড়ানোর। কিন্তু তারপরেও কাটছে না বিতর্কের গন্ধ। ‘দাদা’র আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে দানা বেঁধেছে নানা জল্পনা, তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
এদিন উদ্ভব ঠাকরে নেতৃত্বাধীন শিবসেনার রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় রাউত বলেন, ‘অজিত পওয়ারের মৃত্যু ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এমনকি, ওনার দলের লোকেরাও নানা প্রশ্ন তুলছেন। কিছু একটা গন্ডগোল হয়েছে। ওই ঘটনার নেপথ্য়েও নিশ্চয়ই কিছু ঘটনা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অজিত পওয়ার বলেছিলেন, তাঁর কাছে বিজেপির বিরুদ্ধে কিছু নথি রয়েছে। তারপরই এই দুর্ঘটনা। আমার প্রথম দিন থেকে সন্দেহ হচ্ছে। উনি এনডিএ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এই প্রতিটি কথা সংসদে তুলতে হবে।’ অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াডেট্টি বলেন, ‘এটা ষড়যন্ত্র হতে পারে। তদন্ত করে দেখা উচিত। এনসিপির দু’টি গোষ্ঠী আবার মিলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাতে বাধা পড়েছে। সেই কারণেই তো উপমুখ্যমন্ত্রী পদটি দ্রুত পূরণ করে দেওয়া হল।’
তবে এই সকল অভিযোগ উড়িয়ে দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। এদিন বিজেপি নেতা উজ্জ্বল নিকম বলেন, ‘এই সব অভিযোগ মিথ্য়া, লজ্জাজনক। এটা একটা দুর্ঘটনা, মনে করি না এতে কোনও ষড়যন্ত্র ছিল।’
উল্লেখ্য়, গত বুধবার বিমানে মুম্বই থেকে বারামতীর দিকে যাচ্ছিলেন অজিত পওয়ার। কিন্তু বারামতীতে বিমান অবতরণের মুহূর্তে দুর্ঘটনার শিকার হয় তাঁর বিমানটি। সেই দুর্ঘটনায় পওয়ার-সহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। শুক্রবার পওয়ারের শোকসভা আয়োজন করা হয়েছিল। এরপর অজিতের শূন্যস্থান পূরণে তাঁর স্ত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ সুনেত্রা পওয়ারকে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হয়েছে।