Sonia Gandhi: প্রথম দেখাতেই রাজীব গান্ধীর প্রেমে পড়েছিলেন? সবটাই জানালেন সনিয়া
Sonia Gandhi Rajiv Gandhi Love Story: বন্ধুত্ব দিয়েই শুরু হয়েছিল রাজীব গান্ধী ও সনিয়া গান্ধীর সম্পর্ক। অন্য পড়ুয়াদের সঙ্গে একটি ভ্যালেন্টাইনস ডে পার্টিতে যোগ দেওয়ার কথাও তুলে ধরেছেন সনিয়া। পুরনো ছবি এবং সনিয়ার স্মৃতিচারণের মাধ্যমে ভিডিয়োয় ফিরে দেখা হয়েছে তাঁদের সম্পর্কের শুরুর দিনগুলি।

নয়াদিল্লি: ইংল্যান্ডের কেমব্রিজের একটি ছোট গ্রিক রেস্তরাঁ। সেখানেই আচমকা দেখা। সেই সাক্ষাৎই বদলে দিয়েছিল সনিয়া গান্ধীর জীবনের গতিপথ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে প্রথম দেখা, বন্ধুত্ব এবং প্রেমের শুরুর দিনগুলির স্মৃতিচারণ করলেন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী। তাঁর আসন্ন স্মৃতিকথা ‘Belonging: A Journey of Love’-র ঝলকে উঠে এসেছে সেই পুরনো দিনের কথা। আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হতে চলেছে বইটি। তার আগে শনিবার এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে সনিয়া লিখেছেন, “রাজীব এবং আমি ভালোবাসা, হাসি আর স্মৃতিতে ভরা একটা পৃথিবী তৈরি করেছিলাম। আগামী ১০ নভেম্বর সেই পৃথিবী আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেব।”
‘প্রথম দেখাতেই প্রায় বুঝে গিয়েছিলাম’
ভিডিয়োয় সনিয়া জানান, কেমব্রিজের ‘ভার্সিটি রেস্তরাঁয়’ রাজীবের সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা হয়েছিল। বিংশ শতাব্দীর ছয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় তখন। গ্রিক খাবারের ওই রেস্তরাঁটি ভারত-সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পড়ুয়াদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিল। দু’জনের এক বন্ধুই তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন। দুই তরুণ-তরুণীর সেই প্রথম সাক্ষাৎই শেষ পর্যন্ত পরিণয়ে গড়ায়।
সেই সময় ইংল্যান্ডে নিজের পরিচিত স্বাদের খাবার, বিশেষ করে ইতালীয় খাবারের সন্ধান করছিলেন সনিয়া। বিভিন্ন দেশের পড়ুয়াদের কাছে রেস্তরাঁটি হয়ে উঠেছিল নিয়মিত আড্ডার জায়গা। সনিয়া বলেন, “ইংল্যান্ডের খাবার খুব খারাপ ছিল। সেই সময় এত রেস্তরাঁও ছিল না।” তবে পরিচিত খাবারের সন্ধানে গিয়ে সেই দিন যে স্মৃতি তৈরি হয়েছিল, তা খাবারের অভিজ্ঞতার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে তাঁর জীবনে।
In a small Greek restaurant in Cambridge my journey of love began.
Rajiv and I created a world filled with love, laughter and memories. On 10th November, I share that world with you. https://t.co/zvN5Rqqstf
— Sonia Gandhi (@SoniaGandhi) October 24, 2026
রাজীবের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের কথা স্মরণ করে সনিয়া বলেন, “প্রথমবার ওর সঙ্গে দেখা হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আমার মনে হয়েছিল, ও এমন একজন, যার সঙ্গে আমি সত্যিই থাকতে চাই। পরে জানতে পারি, ওর অনুভূতিটাও একই রকম ছিল।” রাজীবের শুধু চেহারাই নয়, তাঁর নম্র স্বভাবও প্রথম থেকেই সনিয়াকে আকৃষ্ট করেছিল। কংগ্রেস নেত্রীর কথায়, “ওকে খুব শান্ত ও নম্র স্বভাবের মানুষ বলে মনে হত। অবশ্যই ও খুব সুদর্শন ছিল, কিন্তু ওর সেই নম্রতাও প্রকাশ পেত। বিষয়টি আমাকে সত্যিই স্পর্শ করেছিল এবং মনে দাগ কেটেছিল।”
বন্ধুত্ব থেকে প্রেম-
বন্ধুত্ব দিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁদের সম্পর্ক। সনিয়ার স্মৃতিতে উঠে এসেছে, পার্টিতে একসঙ্গে সময় কাটানো, কেমব্রিজের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো এবং কলেজ জীবনের নানা সাধারণ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার কথা। অন্য পড়ুয়াদের সঙ্গে একটি ভ্যালেন্টাইনস ডে পার্টিতে যোগ দেওয়ার স্মৃতিও রয়েছে তাঁর কথায়। পুরনো ছবি এবং সনিয়ার স্মৃতিচারণের মাধ্যমে ভিডিয়োয় ফিরে দেখা হয়েছে তাঁদের সম্পর্কের শুরুর দিনগুলি। পরবর্তী সময়ে যে জীবন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে, তার সূচনা হয়েছিল রাজনীতির আড়ম্বর থেকে অনেক দূরে, কেমব্রিজের এক রেস্তরাঁয়। ১৯৬৮ সালে বিয়ে করেন রাজীব ও সনিয়া। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন রাজীব গান্ধী। ১৯৯১ সালের মে মাসে তামিলনাড়ুতে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে আততায়ীর হাতে নিহত হন তিনি।
১০ নভেম্বর প্রকাশিত হবে সনিয়ার স্মৃতিকথা-
‘Belonging: A Journey of Love’ শীর্ষক স্মৃতিকথায় সনিয়া গান্ধীর জীবনের ব্যক্তিগত অধ্যায় এবং রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক দিন আগেই ইনস্টাগ্রামে যোগ দিয়েছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেত্রী। সেখানেও নিজের বই সম্পর্কে জানিয়েছিলেন তিনি। স্মৃতিকথার ঝলকে মূলত তাঁদের প্রথম সাক্ষাৎ এবং প্রেমের শুরুর দিনগুলির কথাই তুলে ধরা হয়েছে।
ইতালিতে জন্ম সোনিয়ার। পরবর্তী সময়ে তিনি কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী হয়ে ওঠেন। তাঁর জনজীবনের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে রাজনীতি। কিন্তু আসন্ন স্মৃতিকথার নাম এবং প্রকাশিত ঝলক ইঙ্গিত দিচ্ছে, বইটিতে উঠে আসবে আরও ব্যক্তিগত এক আখ্যান—রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর জীবনের শুরুর দিনগুলির গল্প। যে গল্পের সূত্রপাত হয়েছিল কেমব্রিজের একটি ছোট্ট রেস্তরাঁয়।
