
নয়া দিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে এসআইআর মামলার শুনানির মাঝেই উঠে এল কমিশনের অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া গুচ্ছ গুচ্ছ ফর্ম ৬ পাওয়া প্রসঙ্গ। বুধবারের শুনানিতে এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে কল্যাণ জানান, মঙ্গলবার কমিশনের অফিসে প্রচুর পরিমাণ ফর্ম ৬ একসঙ্গে জমা পড়েছে। কমিশনেপ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এখনও ফর্ম ৬ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান কল্যাণ।
রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে বলেন, “চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বার হয়েছে। বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি করার কাজ চলছে। এই অবস্থায় বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ৬ জমা পড়ছে। কোনও রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করছি না। কিন্তু এখন কেন?”
প্রধান বিচারপতি তখন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বলেন, “অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলবেন না।”
তখন কমিশনের আইনজীবী নাইডু বলেন, “নিয়মে বলা হয়েছে মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত ফর্ম ৬ জমা দেওয়া যাবে। এমনকি যাঁর আজ আঠারো বছর বয়স হচ্ছে, তিনিও আবেদন করতে পারেন। কারোর অধিকার এক্ষেত্রে আটকানো যায় না।”
আইনজীবী কপিল সিব্বল তখন উল্লেখ করে বলেন, “কিন্তু এ ক্ষেত্রে হাজার হাজার ফর্ম একসঙ্গে জমা পড়ছে।” কথার রেশ টেনেই আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একজন ব্যক্তি ৬০০০ ফর্ম জমা দিয়েছেন।”
প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, “আপনারা অভিযোগ তুলতে পারেন কিন্তু এ ধরনের ঘটনা নজির আছে।”
পরিস্থিতির কথা বুঝিয়ে আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, “সমস্যা হল কারা আবেদন করছেন, তা আমাদের জানার কোন সুযোগ নেই।” আইনজীবী কল্যাণ বলেন, “কাদের আবেদন জমা পড়ছে তা বুথওয়াড়ি প্রকাশ করা হোক। সেক্ষেত্রে কোনও অভিযোগ থাকলে, আমরা তা দায়ের করতে পারব।”
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “এক্ষেত্রে যে দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন নাম তোলার শেষ দিন বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, সেই দিনের মধ্যে যারা আবেদন করেছেন, তাঁরা থাকবেন। বাকিদের নাম ভোটার তালিকায় উঠতে পারে কিন্তু তারা ভোটাধিকার পাবেন না।”
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, “আমাদের কাছে যা তথ্য আছে সেই অনুযায়ী ৫০ শতাংশের নাম যুক্ত হচ্ছে। ৪৫ শতাংশের নাম বাদ যাচ্ছে। এটা অত্যন্ত হাই রেট।”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্যের CEO দফতর চত্বর। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীরা একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ফর্ম ৬ নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় এদিন। ধস্তাধস্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। বিজেপি কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পাল্টা তৃণমূল সমর্থকদের বাইক ফেলে দেওয়া হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি ফর্ম-৬ এর মাধ্যমে বহিরাগতদের এনে ঢোকাচ্ছে। বাংলার ডেমোগ্রাফি পরিবর্তন করা হচ্ছে।