
নয়াদিল্লি: হাতে ডিগ্রি আছে, চাকরি নেই। কিংবা হাজার হাজার ছেলেমেয়েকে টপকে চাকরি তো মিলে গিয়েছে, কিন্তু তাতে মানসিক স্বস্তি নেই। এই ভূভারত যখন সাক্ষী থাকবে আরও একটা জাতীয় যুব দিবসের, সেই সময় দেশের যুব প্রজন্মকেই ঘিরে রয়েছে অনিশ্চয়তার মেঘ। কেউ শিক্ষিত, কেউ অতিশিক্ষিত — কিন্তু কারওরই ন্যূনতম চাহিদাটা পূরণ করতে পারছে না ক্ষয় ধরা সমাজ। আর এই বিষয়টা যে শুধুই কর্মক্ষেত্রের পরিসর অবধি সীমিত এমনটাও নয়।
নহি যন্ত্র, নহি যন্ত্র, আমি প্রাণী, আমি জানি — বর্তমান প্রজন্মের পরিস্থিতি কিছুটা এই রকমই। এই ক্ষেত্রে একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা প্রয়োজন। সম্প্রতি সংসদে শীতকালীন অধিবেশনে কেন্দ্রের শ্রম ও পরিসংখ্যান মন্ত্রকের কাছে গত পাঁচ বছরের বেকারত্বের পরিসংখ্যান চেয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
উত্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক জানিয়েছিল, ২০১৯-২০ সালে দেশে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সের ব্যক্তিদের বেকারত্বের হার ছিল ৪.৮ শতাংশ, ২০২০-২১ সালে ৪.২ শতাংশ, ২০২১-২২ সালে ৪.১ শতাংশ, ২০২২-২৩ সালে ৩.২ শতাংশ এবং ২০২৩-২৪ সালে ৩.২ শতাংশ। সাময়িকভাবে দেখতে গেলে বেকারত্বের হার কমেছে। তবে খাতায় কলমে। কারণ হতে চাকরি থাকলেও, সেই বেতনে পেট চলছে না দেশের বৃহৎ সংখ্যক মানুষের।
অন্য আরও একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাসে ২৫ হাজার টাকা বেতন পেলেই যে কোনও ব্যক্তি দেশের প্রথম ১০ শতাংশ জনগণের ক্যাটাগরিতে প্রবেশ করে যাবে। তাতে অবশ্য পেট চলবে কিনা তাও নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু খাতায় কলমে সেই ব্যক্তি হয়ে যাবে প্রথম শ্রেণির নাগরিক। এই প্রসঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টিও তুলে ধরা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনের তুলে ধরা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ সালে ভারত বেকার যুবদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ ছিল শিক্ষিত, মাধ্যমিক পাশ। কিন্তু ২০২২ সালে সেই ব্যবধান পেরিয়ে গিয়েছে সকল মাত্রা। দেশে শিক্ষিত বেকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ শতাংশ।