
নয়া দিল্লি : এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির পাঠ্য পুস্তককে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সমাজবিজ্ঞানের ওই বইয়ে ‘বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতির চ্যাপ্টার’ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। আগেই এই বিষয়ে কড়া সমালোচনা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। এবার ওই পুস্তকটি পুরোপুরি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্ল্যাটফর্ম অর্থাৎ অনলাইন, স্কুল ও বিভিন্ন দোকানেও যাতে এই বইয়ের কপি না পাওয়া যায়, দ্রুত সেই বিষয়টা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু দেশ নয়, বিদেশেও এই বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেরকমই নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত,বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ। একইসঙ্গে এনসিইআরটি-র ডিরেক্টর ও স্কুল শিক্ষা দফতরের সেক্রেটারিকে শো-কজ নোটিসও পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। গোটা ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে ক্ষমা চাইল কেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি বলেন, ” কারা এই সিলেবাস তৈরি করেছে ? দায়ী কে তা খুঁজে বের করা আমার কর্তব্য। দোষীরা অবশ্যই শাস্তি পাবে। আমরা এই মামলা এখনই বন্ধ করছি না।” পাঠ্য পুস্তকে এই ধরনের বিষয়বস্তু বিচার বিভাগ সম্পর্কে জনসাধারণের ধারণার উপর প্রভাব নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিন বিচারপতি বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, এটি বিচার বিভাগকে অপমানিত করার এবং প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্বকে দুর্বল করার লক্ষ্যে একটি ‘গভীর, সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’। বিচারপতির বেঞ্চ বলেন, “যদি এটা নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তাহলে জনসাধারণের ধারণা এবং তরুণদের মনে বিচারব্যবস্থার পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হবে।” যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে জানিয়েছে তিন বিচারপতির বেঞ্চ।
ইতিমধ্যেই, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শিক্ষামন্ত্রকের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। কিন্তু, তাতে একেবারেই সন্তুষ্ট নয় সুপ্রিম কোর্ট। দায়ী কে, তা খুঁজে বের করার জন্য গভীর তদন্তের প্রয়োজন । প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ আরও বলেন, “তাঁরা গুলি চালিয়েছে এবং বিচার বিভাগ আজও রক্তাক্ত হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সমাজ বিজ্ঞান বইতে একটি বিশেষ চ্যাপ্টারকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই চ্যাপ্টারে বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতির চ্যাপ্টার যোগ করা হয়েছে। গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট। বুধবারই আদালত অবমাননার স্বতোঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের হয়। বৃহস্পতিবারই সেই মামলা শুনানি ছিল। শীর্ষ আদালত আগেই জানিয়েছে, কোনওভাবে বিচারব্যবস্থার উপরে কোনও আক্রমণ তাঁরা মানবে না। প্রধান বিচারপতি কঠোর ভাষায় বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট কাউকে প্রতিষ্ঠানের (বিচারব্যবস্থা) সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বা অবমাননা করতে দেবে না”। তিনি জানান, হাইকোর্টের বিচারপতি থেকে শুরু করে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রচুর ফোন ও মেসেজ পেয়েছেন। সকলেই এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।