Supreme Court on SIR: সব থেকে পোলারাইজড রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ,কারা এসব করছে আমরা বুঝি না?: প্রধান বিচারপতি

Supreme Court: প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত: আমরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। গতকাল হোয়াটসঅ্যাপে আমাদের জানানো হয়েছে কয়েকজন সমাজ বিরোধী সাতজন জুডিশিয়াল অফিসার, যাঁর মধ্যে তিনজন মহিলা ছিলেন তাঁদের ঘেরাও করা হয়েছে। দুপুর সাড়ে তিনটে থেকে ঘেরাও শুরু হয়েছে। রেজিস্টার জেনারেল প্রশাসনিক কর্তাদের জানিয়েছিলেন এবং তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করার আবেদন করেছেন। রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত কিছুই করা হয়নি। এই সময় হোম সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং প্রধান বিচারপতি ডিজিপির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন। আশ্বাস দেওয়া হয়েছে,পদক্ষেপ করা হবে কিন্তু দীর্ঘক্ষণ কিছুই করা হয়নি।

Supreme Court on SIR: সব থেকে পোলারাইজড রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ,কারা এসব করছে আমরা বুঝি না?: প্রধান বিচারপতি
মালদহের ঘটনা নিয়ে কড়া সুপ্রিম কোর্টImage Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: অবন্তিকা প্রামাণিক

Apr 02, 2026 | 11:54 AM

দিল্লি: মালদহে কালিয়াচকে সাত বিচারককে ৮ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ। মধ্যরাতে তাঁদের উদ্ধারের পরও কনভয়ে পাথর ছোঁড়ার অভিযোগ। গাড়ির কাচ ভেঙে পড়ে সিটে। বিচারকদের সেই হেনস্থার ঘটনা এবার উঠল সুপ্রিম কোর্টে। আরও নজরদারির প্রয়োজন ছিল, মন্তব্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর।

সুপ্রিম কোর্টের সওয়াল-জবাব এক নজরে…

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত: আমি এই ঘটনার রাজনীতিকরণ করতে চাই না। কিন্তু আমরা রাত দু’টো পর্যন্ত খবর পেয়েছি। বিকেল পাঁচটার সময় তাঁদের ঘেরাও করা হয়েছে। রাত এগারোটা পর্যন্ত সেখানে কেউ ছিল না।

আইনজীবী কপিল সিব্বল: অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।

আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী: রাজ্যের সব অফিসারদের ট্রান্সফার করে দেওয়া হয়েছে।

সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা: এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। অত্যন্ত কড়া একটি বার্তা দেওয়া প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডি এস নাইডু: আগে জুডিশিয়াল অফিসারদের ভয় দেখানো হচ্ছিল। এখন সরাসরি তাঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন। এই মবের ক্ষেত্রে কেউ কিছু করতে পারছে না।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী: কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে প্রশাসনের উচ্চকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়েছে। আমরা জড়িত নই বলে কেউ দায় এড়াতে পারে না। সব রাজনৈতিক দলের একসঙ্গে প্রতিবাদ করা উচিত। জুডিশিয়াল অফিসারদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। তাঁরা যে অর্ডার দিচ্ছেন সেটা কোর্টের অর্ডার।

সলিসিটর জেনারেল: জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা রাজ্য পুলিশের হাতে থাকতে পারে না। যা ঘটছে তা আইনের বিরুদ্ধে।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি: এটা কমিশনের দায়িত্ব তারা কোথা থেকে ফোর্স আনবেন। কিন্তু জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

রাজ্যের আইনজীবী গোপাল শংকর নারায়ণ: সিআরপিএফ আসুক বা পুলিশ ফোর্স, আমাদের কোনও সমস্যা নেই।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী: আমাদের নির্দেশকে সম্পূর্ণ অমান্য করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁদের ভেরিফিকেশনের কাজ শেষ করতে হবে।

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত: আমরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। গতকাল হোয়াটসঅ্যাপে আমাদের জানানো হয়েছে কয়েকজন সমাজ বিরোধী সাতজন জুডিশিয়াল অফিসার, যাঁর মধ্যে তিনজন মহিলা ছিলেন তাঁদের ঘেরাও করা হয়েছে। দুপুর সাড়ে তিনটে থেকে ঘেরাও শুরু হয়েছে। রেজিস্টার জেনারেল প্রশাসনিক কর্তাদের জানিয়েছিলেন এবং তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করার আবেদন করেছেন। রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত কিছুই করা হয়নি। এই সময় হোম সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং প্রধান বিচারপতি ডিজিপির সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে কথা বলেন। আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, পদক্ষেপ করা হবে কিন্তু দীর্ঘক্ষণ কিছুই করা হয়নি।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত: হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি চিঠিতে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার এবং ডিএম ঘটনাস্থলে যাননি। প্রধান বিচারপতিকে ডিজিপি এবং হোম সেক্রেটারিকে ফোন করতে হয়েছে। এরপর ডিজিপি এবং হোম সেক্রেটারি প্রধান বিচারপতি বাসভবনে পৌঁছন। অন্যান্য সিনিয়র বিচারপতিরা যোগাযোগ রাখছিলেন। রাত বারোটার পর তাঁরা মুক্ত হন। মুক্ত হওয়ার পর যখন তাঁরা বাড়ি যাচ্ছিলেন তখন তাঁদের গাড়িতে লাঠি দিয়ে মারা হয় এবং পাথর বৃষ্টি হয়।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত: পর্যাপ্ত পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। যেখানে জুডিশিয়াল অফিসাররা কাজ করছেন। কমিশনকে কাজ করতে হবে। যেখানে এই জুডিশিয়াল অফিসাররা থাকছেন সেই হোটেল এবং অন্যান্য জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত: এই জুডিশিয়াল অফিসাররা কোনও হুমকি পাচ্ছেন কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে এবং যথাযথ পদক্ষেপ করতে হবে। এদের পরিবারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত: হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন এই ঘটনা জুডিশিয়াল অফিসারদের উপর ব্যাপক ভয়ের প্রভাব ফেলবে। আমরা প্রধান বিচারপতির চিঠি দেখে অত্যন্ত হতাশ। সেখানে তিনি বলেছেন, চিফ সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি এবং হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানোর জন্য তাঁর নম্বরও ছিল না।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত: রাজ্য প্রশাসনকে এই জুডিশিয়াল অফিসারদের কাজ যাতে মসৃণ ভাবে হয় তা সুনিশ্চিত করতে সবরকম পদক্ষেপ করতে হবে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত: হোম সেক্রেটারি, ডিজিপি, পুলিশ সুপার এবং ডিএম এবং অন্যান্য অফিসারদের নিশ্চিত করতে হবে। যেখানে এই কাজ চলছে সেখানে পাঁচজনের বেশি ব্যক্তি যেন প্রবেশ করতে না পারে। জমায়েত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত: এই ঘটনা কোনও রোজকার ঘটনা নয়। বরং পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে। জুডিশিয়াল অফিসারদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। যাতে নিষ্পত্তির কাজ না হয় তা বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত: এই ঘটনা কোনও অপরাধের থেকে কম নয়। আমরা কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেব না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজের দায়িত্ব পালন করেনি। তাদের গাফিলতির প্রমাণ এতে রয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের যোগাযোগ করার পরেও কেন তারা কোনও পদক্ষেপ করলেন না সে বিষয়ে তাদের জবাব দিতে হবে।

গতকালের ঘটনা সিবিআই অথবা এনআইএ তদন্ত করবে। কী ঘটনা ঘটেছে তার প্রাথমিক রিপোর্ট এই কোর্টে দ্রুত জমা দিতে হবে।

রাজ্যের এডভোকেট জেনারেল বলার চেষ্টা করেন যে এক্ষেত্রে কমিশনকে সব রকম সহযোগিতা করতে হবে।

প্রধান বিচারপতি: দুর্ভাগ্যবশত আপনার রাজ্যে সবাই রাজনীতির ভাষায় কথা বলেন। সব থেকে পোলারাইজড রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। আপনি কী ভাবছেন কারা এসব করছে আমরা বুঝি না? আমরা রাত দুটো পর্যন্ত সব কিছুর উপর নজর রেখেছি। খুব খুব দুঃখজনক ঘটনা।

রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল: আইনশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ ভাঙন এই লাইনটা বাদ দিন প্লিজ। এর সুদূর প্রসারী প্রভাব পড়বে।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি: আমরা বিষয়টা মাথায় রাখছি। পরে দেখব।

কমিশনের আইনজীবী: এটাই নগ্ন সত্যি।

আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়: যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

আইনজীবী ডিএস নাইডু: এখন সবাই সাধু সাজছে।

Follow Us