
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান আইনের ধারা তুলে উল্লেখ করেন, “যাঁদের ভোটাধিকার চলে গিয়েছে, তাঁদের সুযোগ দেওয়া হোক। যারা বিচারাধীন তালিকায় আছে, তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দিন।”
পাল্টা আইনের ধারা তুলে বিরোধিতা করেন কমিশনের আইনজীবী নাইডু।
বিচারপতি বাগচী: আমাদের একটু ভাবার সময় দিন। দু’পক্ষের কথাই আমাদের মাথায় রাখতে হবে।
কমিশনের আইনজীবী নাইডু: এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। ট্রাইব্যুনালে শুনানির মধ্য দিয়ে কাদের নাম থাকবে, কাদের নাম বাদ যাবে, তা ঠিক হবে। কিন্তু ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়: ২৩ এপ্রিল ভোটের আগে যত সম্ভব কেসের শুনানি শেষ করা হোক।
প্রধান বিচারপতি: আমরা ট্রাইব্যুনালের উপর চাপ দিতে পারি না। আজ এই বিষয়ে রিট পিটিশনে শুনানি আমরা করেছি।
কল্যাণ: পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আপনাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা ভোটাধিকার চায়।
আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়: বাংলায় কীভাবে জনবিন্যাস পরিবর্তন হয়েছে সকলে জানে।
কল্যাণ: বাংলাকে টার্গেট করবেন না। বাংলা জানে কীভাবে লড়াই করতে হয়।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়: রঘুনাথগঞ্জে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে সব ভোটার বিচারাধীন। সেখানকার সব মামলা পেন্ডিং আছে। অথচ এমন একটা ‘ইমপ্রেশন’ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে, যেন বিচারাধীন সমস্ত কেসের নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে। ১৬ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। তাঁদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।
প্রধান বিচারপতি: এই প্রশ্ন ওঠেই না।
বিচারপতি বাগচী: কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, ৩৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। ৬ এপ্রিল বা ৭ এবং ৮ এপ্রিল কয়েক দফায় যাঁদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাঁরা ২৩ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন।
এসআইআর মামলায় বিচারপতি বাগচীর পর্যবেক্ষণ, বিহারের থেকে পশ্চিমবঙ্গে আলাদা নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী: বিহার SIR শুনানিতে বলা হয়েছিল, যে ব্যক্তির ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে, তাঁকে কোন নথি দিতে হবে না। রিটেন সাবমিশন ফর্ম খতিয়ে দেখুন। আপনারা আপনাদের অবস্থান থেকে সরে গিয়েছেন।
আইনজীবী নাইডু: সেই ব্যক্তিকে প্রমাণ করতে হবে যে, তিনি ২০০২-এর ভোটার তালিকায় থাকা একই ব্যক্তি।
বিচারপতি বাগচী: বিশ্বাস যোগ্যতার অভাবের কারণেই সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করেছে। কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে নয়। জুডিশিয়াল অফিসাররা যে বিপুল পরিমাণ কাজ সামলাচ্ছেন, তাতে কিছু ভুল হতেই পারে। এই কারণেই আমাদের একটি ‘Robust Appellate’ প্রয়োজন যাতে অধিকার সুরক্ষিত হয়। কিন্তু মাঝে নির্বাচন থাকার কারণে এই কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক কাঠামোয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের কথা আলাদা করে বলতে হচ্ছে কারণ অন্য কোন রাজ্যে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি নেই। একজন ব্যক্তিকেও লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি তালিকায় রাখা হয়নি।
কমিশনের আইনজীবী নাইডুর উদ্দেশে বিচারপতি বাগচী: যখন আপনারা স্বতঃপ্রণোদিত তদন্তে যান, তখন নোটিস দিয়ে শুনানির সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই কারণেই আমরা ট্রাইবুনাল চেয়েছিলাম। আমাদের ‘ন্যায্য প্রক্রিয়ায় অধিকার রক্ষা করতে হবে।
আইনজীবী নাইডু: যখন আমরা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি তালিকা প্রকাশ করেছি এবং মানুষকে জানানো হয়েছে, তখন তারা আপত্তি জমা দিতে পারে। অনুগ্রহ করে লক্ষ্য করুন, ৪৭ শতাংশ আবেদন বাতিল হয়েছে।।
বিচারপতি বাগচী: এটা দোষারোপের খেলা নয়। একজন ভোটার এখানে দুই সাংবিধানিক সংস্থার মাঝে পড়ে যাচ্ছে স্যান্ডউইচ হচ্ছেন।
ট্রাইবুনালের কাজে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল সুপ্রিমকোর্ট।
ট্রাইবুনালের শুনানি দ্রুত করার আবেদন জানানো হয়েছিল। ভোটার তালিকায় নাম সংযুক্তির সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছিল।
বিচারপতি বাগচী: এখন আপনি আগের বক্তব্য থেকে সরে এসে নতুন যুক্তি দিচ্ছেন।
আইনজীবী ডি এস নাইডু: আমি মডেল ফর্ম আদালতে জমা দেব।
বিচারপতি বাগচী: আপনি এমন একজনের কাছে মডেল ফর্ম দিচ্ছেন, যিনি ইতিমধ্যেই ফর্ম পূরণ করেছেন। ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ তালিকার জন্য একাধিক ফিল্টার রয়েছে। যখন এসব প্রক্রিয়া চালু করেন, তখন আপনারা সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে যাচাই করছেন। যখন স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত করেন, তখন নির্বাচন বিধির ১৯ থেকে ২৩ নম্বর নিয়ম প্রযোজ্য। এই ক্ষেত্রে শুনানি হয়নি, শুধু যাচাই হয়েছে। সেই কারণেই আপিল ট্রাইবুনাল রাখা হয়েছে। আমাদের ‘ডিউ প্রসেস’ অধিকার রক্ষা করতে হবে।
বিচারপতি বাগচী: যদি সেটা ৫ শতাংশের কম হয়, তাহলে আমাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। আগে প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হত আপিল ট্রাইবুনালে, কারণ কোনও প্রার্থীকে নির্বাচন লড়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না। দয়া করে ভাববেন না যে বাদ পড়া ভোটারদের প্রশ্নটি আমাদের মাথায় নেই।
বিচারপতি বাগচী: যদি কোনও আপত্তিকারী অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপিল করে, তাহলে সেই ব্যক্তিকেও আবার বাদ দিতে হতে পারে। তাই আগে জুডিশিয়ার অফিসার ও তারপর আপিল ট্রাইবুনাল রাখা হয়েছিল।
কমিশনের আইনজীবী ডি এস নাইডু: প্রথমে আদালত আপিল ট্রাইবুনাল গঠনের পক্ষেও ছিল না।
বিচারপতি বাগচী: আমরা সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষকে ভোটার তালিকার বিশুদ্ধতা যাচাই করার অনুমতি দিয়েছি। আপনারা যে মূল SIR নোটিফিকেশন দিয়েছিলেন, তাতে ২০০২ সালের তালিকার কথা উল্লেখ ছিল না। কিন্তু আপনারা যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ তালিকা তৈরি করেছেন, তার প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে ২০০২ সালের তালিকাকেই ধরেছেন। অর্থাৎ ২০০২ সালের তালিকাই বেঞ্চমার্ক। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় আপনারা ২০০২ সালের ভোটারদের বাদ দেননি। বিহারের SIR মামলায় আপনারা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ২০০২ সালের ভোটারদের কোনো নথি দেওয়ার প্রয়োজন নেই—আপনাদের লিখিত বক্তব্য দেখুন।
নাইডু: কিন্তু তাঁদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা ২০০২ সালের তালিকার একই ব্যক্তি। অনেকেই ভিন্ন নামে ব্যবহার করছেন।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী: কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন যে, আপিলের পদ্ধতি ও রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার থেকেই শুনানি শুরু হয়েছে। আমরা বলতে পারি না যে আজ থেকেই ‘x’ সংখ্যক আপিল শুনতে হবে।
বর্ষীয়ান আইনজীবী ডি এস নাইডু (কমিশনের পক্ষে): আমরা সবসময়ই সমস্ত নথি জমা দিয়েছি। এখন আমাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এখানে ৩০ লক্ষ আপিল রয়েছে।
বিচারপতি বাগচী: যতক্ষণ না বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়ছেন বা নির্বাচনে বাস্তবিক প্রভাব পড়ছে, ততক্ষণ নির্বাচন বাতিল করা যায় না। যদি ১০ শতাংশ ভোটার ভোট না দেন এবং জয়ের ব্যবধান ১০শতাংশের বেশি হয়, তাহলে…
কথার মাধেই প্রধান বিচারপতি বলেন, সেটা কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা।
আইনজীবী: কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদেশগুলো বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের সামনে উপস্থাপনই করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন নিজেই জানে না কী হচ্ছে! আপিলগুলো শুনানির জন্য তোলা হচ্ছে না। তিনি ফ্রিজিং ডেট বাড়ানো র আবেদন জানান।
প্রধান বিচারপতি (CJI): আপিল ট্রাইবুনালের সামনে যান এবং এসব কথা সেখানে বলুন।
আইনজীবী: যদি আমাকে বলার সুযোগই না দেওয়া হয় তাহলে কী করে বলব? আপিলগুলো কি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তি হবে?
প্রধান বিচারপতি: “তাহলে কি আপনি চান আমরা প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ও বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করি?”
আইনজীবী: যাঁদের আধার ও পাসপোর্ট রয়েছে, তাদেরই অনুমতি দেওয়া হবে—এই আদালতই তা বলেছে।
নয়া দিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে শুরু হল এসআইআর মামলার শুনানি। তবে এটি মূল মামলা নয়। একজন ম্যাপড ভোটার, তাঁর পাসপোর্ট রয়েছে, আধার কার্ড রয়েছে, তা সত্ত্বেও কোনও কারণ না দেখিয়ে নাম কাটা হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে ভোটার তালিকায় নাম সংযোজনের আবেদন জানিয়ে সেই ব্যক্তি একটি মামলা করেন। সোমবার প্রথমে সেই মামলার শুনানি শুরু হয়।